নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাশেম ফুড কারখানার অগ্নিদগ্ধ ৬তলা ভবনের নীচতলা থেকে উপর প্রতিটি তলা ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে আছে ভাঙ্গা টাইলস আর ছাদ পুড়ে ধ্বসে পড়া রাব। ফ্লোর জুড়ে পোড়া যন্ত্রাংশ আর মালামাল। সবখানেই স্যাঁতস্যাঁতে পানি। উৎকট পোড়া কটু গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। ভবনের যেখানে আগুনে পোড়া অঙ্গার হয়ে গেছে ৪৯ টি তাজা প্রাণ সেই চারতলায় মেঝের পানিতে ভাসতে ক্যামিকেলের আবরণ। নিশব্দ ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে বাতাসের ঝটকায় হঠাৎ কাঁচের টুকরো ঝড়ে পরার শব্দ যেনো জানিয়ে যায় এতো শব্দহীন ছিল না কোন কালে এই ভবনটি।
কর্তব্যরত এক নিরাপত্তকর্মী জানালেন, পরির্দশন দল, গণমাধ্যম কর্মী, ফায়ার সার্ভিস কিংবা আইন প্রশাসনের লোকজন আসে মাঝে মধ্যে। এছাড়া এলাকার এখন আর কেউ আসেন না। এখন রাত হলে ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করে এ ভবনে। ঝরা কাঁচ কিংবা ছাদের বালুর রাব ধসে পরার শব্দ তখন পিলে চমকে দেয় দায়িত্বরত প্রহরীর।
শনিবার ১৭ জুলাই কারখানা পরিদর্শনে আসেন সিআইডি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর পরিদর্শন, নাগরিক তদন্ত কমিটি ও ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের একটি দল। এ কারণে সেখানে ভীড় করেন গণমাধ্যম কর্মীরাও। পরিদর্শনে গিয়ে কর্তাদের নজর এড়িয়ে গেলেও কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীর নজর এড়ায়নি কোন পোড়া লাশের পাজরের হাড় আর পোড়া কাপড়সহ দেহের ধ্বংসাবশেষ। ছবি তুলতে কাছে এগিয়ে যেতেই মানুষের পচে যাওয়া দূর্গন্ধে নাড়ী উল্টে আসার উপক্রম।
জানা যায়, হাড় পরে থাকা চারতলার এই অংশটিতে নারীদের পোশাক পরিবর্তন করার জন্য একটি ছোট কামরা ছিল। পুড়ে যাওয়া কাপড়চোপড় দেখে ধারনা হচ্ছে এটি হয়তো কোন নারীর কোমড়ের হাড়ের অংশ বিশেষ। এদিকে নাগরিক তদন্ত কমিটির লোকজনও মৃতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে সন্দিহান প্রকাশ করেছেন। তারাও খুঁজে পেয়েছেন আরেক টুকরো হাড়। এ অবস্থায় আসলে কতগুলো প্রাণহানী ঘটেছে অভিশপ্ত হাসেম ফুডের এই ভবনে তা এখনো নিশ্চিত নয় কোন দপ্তরের। লাশের পরিসংখ্যান নিয়েও ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস দাবি তুলেছেন ৪৯টি পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন তারা আবার পুলিশ মামলায় লিখেছেন ৪৮ জনের উদ্ধারের কথা। এদিকে নিখোঁজ কতজনের দাবি করা হয়েছে তার হিসেবও জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কেউ।
অগ্নিদগ্ধ ভবনের চারতলায় শ্রমিকের হাড় পাওয়া গেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ জেলার উপসহকারী পরিচালক তানহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও তদন্ত কমিটির সঙ্গে ভবন পরিদর্শনে ছিলাম। তখন এমন কোনো ঘটনা দেখতে পাইনি। এমন কিছু আছে কিনা তা খুঁজে দেখছি।’
এমন নির্মম ঘটনার পরও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা এই পোড়া লাশের উপর দাড়িয়ে নানাভাবে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে । একই ভাবে কোন এক ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা গ্রেফতারকৃত আসামীদের নানাভাবে সহায়তা করতে ব্যাপক তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পুলিশের এক কর্মকর্তা । সেই তদ্বিরের অংশ হিসেবে এই আসামীরা রিমান্ডে থাকাবস্থায় উন্নমানের খাবারের সরবরাহ করা হয়েছে আসামীদের পছন্দ অনুযায়ী । আাসমীদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে যাবতীয় সুবিদার পর আদালতে হাজির করার সাথে সাথেই আসামীদের দুইজনকে জামিন দিয়েছে আদালত ।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর সাথে আলোচনাকালে বলেন, “সেই প্রবাদ “ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া’ র দৃশ্য দেখলাম ! আসলেই আমরা মানুষ কত অপরাধ করতে পারি তার প্রমাণ হলো এই ৫২ লাশের উপর দাড়িয়ে কোন কোন কর্মকর্তা অত্যান্ত কৌশলে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে । সিদ্ধিরগঞ্জের এক ঘনিষ্ট আত্মীয়ের মাধ্যমে এই ঘুষ বাণিজ্য হলেও তার প্রমাণ না থাকায় নাম বলা যাচ্ছে না । তবে রাস্ট্রের উচিৎ এতো পোড়া লাশের উপর দাড়িয়ে যারা বাণিজ্য করছে তাদের কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ। রাস্ট্র পারে না এমন কোন কাজ নাই । তাই এমন অপরাধের সঠিক বিচারও দাবী করেছেন এই কর্মকর্তা। (যার রেকর্ড সংরক্ষণে রয়েছে )
এমন চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনায় কি করে নিম্ন আদালত জামিন মঞ্জুর করলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের অনেকেই ।









Discussion about this post