‘ইদানীং এখানে (শেখ রাসেল পার্ক) নারীদের অনেকে বলে, তারা মাথায় ঘোমটা দেয়নি কেন ? টিপ কেন পরেছে ? ঘোমটা–টিপ মানুষের (নারীদের) ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন না। পর্দা করা প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয়। যদি ভালো না লাগে, তাহলে তাকাব না। কিন্তু সমালোচনা কেন করব ? অন্যায় কাজ তো তারা করছে না।’
পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ জুন) নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এভাবেই সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হেফাজত ইসলামীর নেতাদের ঈঙ্গিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে কাউকে রুখে দাঁড়াতে দেখি না। এই শহরে কত ধরনের অন্যায় ঘটনা ঘটছে। ত্বকীসহ শীতলক্ষ্যা নদীতে কত লাশ পাওয়া গেছে। কোনো মৌলভি সাহেবকে দেখি নাই এর প্রতিবাদ করতে। কিন্তু আইভীকে গালাগালি করতে হবে তাদের।’
এর আগে গত রোববার শহরের চাষাঢ়ায় এক অনুষ্ঠানে হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দ মেয়রের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন।
মেয়র আইভী বলেন, ‘যা–ই হোক আমাকে দশ কথা বলুক তাতে কিছু যায়–আসে না। শুধু তাদের বলব, যার যার অবস্থান বুঝে কথা বলুন। এমন কথা বলবেন না, যাতে মানুষ উল্টো আপনাদের ঘৃণা করা শুরু করে। আমি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। কথার পিঠে কথা বলে বা ঝগড়া করে সময় নষ্ট করতে চাই না। একসঙ্গে আমাদের শহর গড়তে চাই।’
নাসিক মেয়র বলেন, ‘যারা পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেলের পণ্ডিত হন, তাদের মুখে অন্যকে আক্রমণ করা সাজে না। তারা আমাদের জন্য উদাহরণ।
নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শামসুল আলম আজাদ, নাসিক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিততে মেয়র আইভী আরো বলেন, পার্ক নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই রাসেল পার্ক সবার জন্য উন্মুক্ত। ছোট, বড়, বৃদ্ধ সবাই আসতে পারছেন। কিন্তু এই পার্ক নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। চারুকলা নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবেই। যারা বাজে কথা বলে–তারা বাজে কথা বলবেই। কিন্তু আমাদের ভালো কাজ করে যেতে হবে। মানুষ বিচার করবে কর্ম দিয়ে।’










Discussion about this post