আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টায় ইউরো টেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করেন।
এমন অবরোধে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীসহ আহারো যাত্রী সাধারণ।
জানা যায়, উপজেলার ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় রপ্তানিমুখী ইউরো টেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকেরা এক মাসের বকেয়া বেতন–ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করে আসছিলো। এমন বিক্ষোভের পর এক পর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ওই ভাংচুরের ঘটনায় কারখানার কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে চাকরিচ্যুত ২৭ শ্রমিককে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেন। এর পর থেকে কারখানার শ্রমিকেরা মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শ্রমিকরা।
গতকাল রোববার ১৬ ফেব্রুয়ারী রাতে মালিকপক্ষ কারখানা শ্রম আইনে লে-অফ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মামলা প্রত্যাহার, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং লে-অফ ঘোষণা করা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। বহিরাগত লোকজন কারখানা ভাঙচুর করেছেন। শ্রমিকদের হয়রানি করতে ২৭ শ্রমিককে চাকরিচ্যুত ও তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। অবিলম্বে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মামলা প্রত্যাহার ও কারখানা খুলে দিতে হবে।
অভিযোগের ঘটনায় কারখানার কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
শিল্প পুলিশ-৪ পরিদর্শক (গোয়েন্দা) সেলিম বাদশা এ বিষয়ে বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিকপক্ষ ২৭ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে।
আজ সোমবার সকালে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকেরা চাষাঢ়ায় সড়ক অবরোধ করেন। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।









Discussion about this post