‘নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছিলো ওসমান পরিবার। ওসমান পরিবারের অত্যাচারের হাত থেকে কোনো ব্যবসায়ী, জনগণ সাধারণ মানুষ কিন্তু নিরাপদ ছিলো না। এখানে আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান এদের প্রত্যেকের বাহিনী দিয়ে যে সন্ত্রাসের জনপদ তৈরি করে ছিলো নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল শাহ নিজামসহ আমরা নারায়ণগঞ্জের কোনো উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসীকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হতে দেখি নাই।’
এভাবেই ওসমান পরিবারের অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে আজ শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে ৩ টায় শহরের বিবি মরিয়ম স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে মহানগর যুবদলের আয়োজনে অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে উদ্দেশ্য করে মুন্না বলেন, ‘প্রশাসনকে আমরা বলতে চাই, ছাত্র জনতার আন্দোলনে শামীম ওসমান নিজে অস্ত্র হাতে গুলি চালিয়ে ছিলো। এই সমস্ত ক্রিমিনালরা কিভাবে বাংলাদেশ থেকে বের হয়ে গেলো এটা একটা বিরাট রহস্যের ব্যাপার। তাদের অন্যান্য সহযোগীরা যারা এখনো বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রয়েছে আমি তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছি। ডিসি ও এসপি আপনারা নারায়ণগঞ্জের মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যা যা করণীয় আপনাদের কাছে আমাদের উদাত্ত আহ্বান কেউ যদি কোনো অন্যায় করে তাদেরকে সুযোগ দিবেন না। কোনো দলীয় পরিচয়কে গ্রহণ করবেন না। আমাদের কে কিন্তু জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। কেউ অন্যায় করলে কিন্তু তিনি কাউকেই ছাড় দিচ্ছেন না। এক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স।’
ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি দু:খজনক হত্যাকাণ্ড হয়েছিলো। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের আজ পর্যন্ত ধরা হয় নাই। আমি আশা করি ওসমান পরিবারের কেউ কেউ এখানে জড়িত আছে প্রশাসন অবিলম্বে এই ত্বকী হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনবে। এই নারায়ণগঞ্জে গত সাড়ে ১৫ বছরে যত অন্যায় অবিচার ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে প্রত্যেকটির বিচার হতে হবে। যুবদল কর্মী স্বজন ও শাওন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখনো আমরা গণতন্ত্রের স্বাদ পাইনি। বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র অপচেষ্টা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে এখনো হুমকির মুখে রেখেছে। আমরা এখনো নিরাপদ নই। জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার যে বিপ্লব এর পটভূমি শুরু হয়েছিলো দেড়যুগ আগে থেকেই। যেটার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। উনার আপোষহীন মনোভাবের কারণেই বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট হাসিনার মসনদকে কাপিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের এক সময় চালিকা শক্তি হিসেবে আর্ভিভূত হয়েছেন তারেক রহমান। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ১৮কোটি মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামীতে উনি বাংলাদেশকে নিয়ে সুন্দর একটি পরিকল্পনা নিয়েছেন। বিএনপি ২০২৩ সালে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দাবি দিয়েছিলেন। সেখানে সকল কিছু রয়েছে। তারেক রহমান বলেছেন, সংস্কার এবং নির্বাচন মুখোমুখি জায়গায় দাঁড় করানোর প্রয়োজন নাই। সংস্কার থাকবে আবার নির্বাচনও হবে।
জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে মুন্না আরো বলেন, ‘আমরা জেলা ও মহানগরের কেন্দ্রে বসে না থেকে উপজেলা, থানা পৌরসভা ওয়ার্ড গুলোতে যান। ঘরে এবং পার্টি অফিসে বসে রাজনীতি করলে কিন্তু হবে না। আমরা কিন্তু আপনাদের সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি।’
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ এর সঞ্চালনায় ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলে আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নয়ন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন সহ অন্যান্য যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যরাদের উপস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না আরো বলেন, ‘আমরা জেলা ও মহানগরের কেন্দ্রে বসে না থেকে উপজেলা, থানা পৌরসভা ওয়ার্ড গুলোতে যান। ঘরে এবং পার্টি অফিসে বসে রাজনীতি করলে কিন্তু হবে না। আমরা কিন্তু আপনাদের সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি।’









Discussion about this post