মহানগর প্রতিনিধি :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করেছে।
ঘোষিত তালিকায় নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
এই তালিকা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজারুল ইসলাম মান্নান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তবে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। এ আসন ঘিরে দলে চলছে জোর গুঞ্জন ও তীব্র কৌতূহল।
নতুন মুখ, নতুন বিতর্ক
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জের ঘোষিত চার প্রার্থীর সবাই তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থবিত্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনীতদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ব্যবসায়ী পার্টনার। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যবসায়িক অংশীদার। আনিসুল হক ছাড়াও শামীম ওসমান, সেলিম ওসমানের সাথে ছিলো গভীর সখ্যতা।
এই অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের প্রার্থীরা দলের আদর্শ ও তৃণমূলের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন।
বঞ্চিত প্রবীণরা ক্ষুব্ধ
দলের ঘোষিত মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাবেক জেলা সভাপতি রেজাউল করিম, জনপ্রিয় নেতা আতাউর রহমান আঙ্গুর এবং সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন—এই প্রবীণ নেতারা এবার মনোনয়ন পাননি।
তাদের অনুসারীরা মনে করছেন, দলের আন্দোলনকালীন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে বিত্তবান ও নতুন মুখদের অগ্রাধিকার দেওয়া “রাজনৈতিকভাবে অযৌক্তিক” এবং “দলের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর”।
নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তাপ
এই ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, নতুন প্রার্থীরা পরিচিত মুখ না হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে কর্মীদের একত্র করা কঠিন হবে।
এদিকে, বিএনপির হাইকমান্ড এখনো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে জেলাজুড়ে আলোচনা চলছে, কে হচ্ছেন বিএনপির শেষ তুরুপের তাস ?









Discussion about this post