আদালত প্রতিনিধি :
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি এ.এস.এম. আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে পাঁচটি মামলায় আইভীকে জামিন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানার দুই মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন জানায় পুলিশ।
আদালত শুনানির জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান।
তিনি বলেন, “রবিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। আদালত উভয় আবেদনের শুনানির তারিখ আগামী ১৩ নভেম্বর ধার্য করেছেন।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা দুটি মামলার একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা। অপরটি আইভীকে গ্রেপ্তারে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় দায়ের করা হয়।
দুটি মামলার কোনো একটিতেই আইভীর নাম এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় নেই। তবে তদন্তে অপরাধে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।” একই বক্তব্য দিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেনও।
২০২২ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট সারাদেশের মেয়রদের অপসারণ করলে পদ হারান তিনি।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা অন্তত পাঁচটি মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই আদমজী এলাকায় আন্দোলনের সময় পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই নাজমুল হক শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নামে এবং অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ মামলার ১২ নম্বর আসামি ছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
পরবর্তীতে ৯ মে সকালে শহরের পশ্চিম দেওভোগের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।









Discussion about this post