নগর প্রতিনিধি :
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. কবির ওরফে মোজাফফর।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চরাঞ্চলের বক্তাবলি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ নামের এক ব্যক্তির দুই সহযোগীকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকরা হলেন ফিলিপের মামা শ্বশুর বেঞ্জামিন চিরান (৪৫) এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু সীশল (২৮)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের পালাতে সহায়তার যোগসূত্রে তারা নজরদারিতে ছিলেন।
এদিকে, গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু ও শ্যালিকা মারিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করে র্যাব। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার আগে ও পরে যোগাযোগ ও সহায়তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই দিন বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন— সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম ও আরেক সহযোগী।
এছাড়াও র্যাব পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন মো. আব্দুল হান্নানকে আটক করে পল্টন থানায় হস্তান্তর করেছে। অভিযানের সময় হামলায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়, যা ঘটনার প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাচেষ্টা একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ ছিল কিনা, এর পেছনে কারা অর্থ ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বা সীমান্তপথে পালানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় ধারাবাহিক গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তদন্ত আরও গভীরে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।









Discussion about this post