নিজস্ব প্রতিবেদক :
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অভিযোগ ওঠা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অবশেষে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার থেকে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কে।
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শফিকুল আলমের ছোট ভাই আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিদায়কে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের প্রভাব ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন–এর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় সকল আইন-কানুন রীতি নীতি উপেক্ষা করে ।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন মহলের দাবি, প্রশাসক থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন।
বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দেওয়ার নামে প্রায় ৩০ কোটি টাকার চুক্তি করে ১৬ কোটি টাকা গ্রহণের অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এ ঘটনায় ড. শাহরিয়ার নামে এক কর্মকর্তার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া, বিপুল পরিমাণ অর্থ একটি বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেঘনা গ্রুপ–এর নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে মেঘনা গ্রুপের নানান অপরাধ কর্মকাণ্ড রক্ষা করতে ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বড় ভাই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সর্বাত্মক সহযোগিতা করার গোপন চুক্তি করে। সেই চুক্তি মোতাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মেঘনা গ্রুপের সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেয় এই শফিকুল আলম। সেই গোপন চুক্তি মোতাবেক দুই ভাইয়ের লুটপাট কৃত কোটি কোটি টাকা এই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গোপনে লগ্নি হিসেবে বিনিয়োগ করেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে ব্যবসায়ী মহলে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা চলছে যে, ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে একটি নতুন পত্রিকায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনাও এই প্রভাবের অংশ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বিদায়ের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
এতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে জনমনে আস্থাহীনতা আরও বাড়বে। তারা দ্রুত একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নাগরিকদের প্রত্যাশা—দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সংঘটিত সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।









Discussion about this post