রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা এলাকায় একটি মন্দিরে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট পশ্চিম মনিপাড়া এলাকায় অবস্থিত শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দিরে।
স্থানীয় সূত্র ও মন্দির পরিচালনা কমিটির অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে।
তারা মন্দিরে থাকা সরস্বতী প্রতিমাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সামগ্রী ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে প্রতিমার গায়ে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, এতে মন্দিরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালিপদ দাস জানান, ভাঙচুরের শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দিরের জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অতীতেও এ নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার হুমকির অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
তার বক্তব্য, এ ঘটনার সঙ্গে তার বা তার পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জমি সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান প্রত্যাশা করেন।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতি ও করণীয়
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য এড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, স্থানীয় নেতৃত্বের সংলাপ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।









Discussion about this post