স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এলাকা ও সরকারি স্থাপনার সামনে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনা নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
নগর ভবনের সামনেই সংঘটিত এই দুঃসাহসিক ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর পৌনে ৬টার দিকে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের শিকার হন সদর মডেল থানার অধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনের সময় টয়লেট ব্যবহারের জন্য তিনি সাময়িকভাবে টিম থেকে আলাদা হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল নিয়ে তিনি নিতাইগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে।
মুহূর্তের মধ্যেই তারা তার সঙ্গে থাকা সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই পুলিশ সদস্য পুলিশের পোশাকেই ছিলেন।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানাজানি হলে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যদি শহরের কেন্দ্রস্থলে এমনভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র।
এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী এক খুদে বার্তায় জানান, বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার বেপারীপাড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে মো. মিশাল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার মিশাল নগরীর দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার প্রয়াত মিজানুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরেকজনকে আটক করা হলেও তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
ছিনতাই হওয়া সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরভবন, সরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও নিতাইগঞ্জ এলাকার এই অংশে দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও অপরাধের ঘটনা ঘটে আসছে।
রাত কিংবা ভোরে চলাচল করা পথচারীরা প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন, অথচ কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেখা যায় না।
শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অস্ত্র লুটের মতো গুরুতর ঘটনায় দায় এড়াবে কে, আর নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কবে ?








Discussion about this post