স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের পেশাদারিত্ব।
মার্চ মাসজুড়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা যেন একই সুতায় গাঁথা—অভিযোগ, অনিয়ম, এবং দায় এড়ানোর প্রবণতা।
গত ২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসির ক্যাশিয়ারখ্যাত মিলন চন্দ্র হাওলাদার নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ভাঙ্গা থানায় আটক হন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে দ্রুত বদলি করে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এতে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে—পুলিশ কি নিজের লোকদের রক্ষায় আইনকে পাশ কাটাচ্ছে ?
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, ৯ মার্চ নগরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় পুলিশের মোটরসাইকেল থামিয়ে টাকা, মোবাইল ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতা দেখিয়ে ছিনতাইকারীকে আটক এবং অস্ত্র উদ্ধার করে। দ্রুত পদক্ষেপের এই নজির প্রশংসনীয় হলেও, পরবর্তী ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভিন্ন চিত্র।
২৯ মার্চ মাসদাই এলাকায় রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারজানা আফরোজ। কিন্তু তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় পুলিশের দৃশ্যমান অগ্রগতি বা উদ্ধার অভিযানের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে প্রশ্ন জাগে—সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে পুলিশের এই নীরবতা কেন ?
এরপর ৩০ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী বাজার এলাকায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এএসআই জহিরুল ইসলাম স্থানীয়দের অবরোধের মুখে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে এক ব্যক্তির কাছ থেকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ ও মোবাইল আদায় করেছিলেন তিনি। পরে টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও ক্ষুব্ধ জনতার রোষ এড়াতে পারেননি।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি—শুধু বলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে গভীর হতাশা তৈরি করেছে। কোথাও দ্রুত পদক্ষেপ, কোথাও রহস্যজনক নীরবতা—আইন প্রয়োগে এই দ্বৈত আচরণই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের ভেতরে জবাবদিহিতার অভাব এবং অপেশাদারিত্বই এমন পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রে অবস্থান করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়াবে—এ প্রশ্ন এখন নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নাগরিকের মনে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, দৃশ্যমান শাস্তি এবং সর্বোপরি—আইনের সমান প্রয়োগ।
নচেৎ এই আস্থার সংকট আরও গভীর হবে, যার দায় এড়ানো কঠিন হবে সংশ্লিষ্টদের জন্য।









Discussion about this post