স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পুলিশের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের এমন দুঃসাহসিক তৎপরতা প্রমাণ করে, একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
শনিবার (২ মে) মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল রানা বাদী হয়ে শেখ সিফাত, সোহান ও ইমনসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা হামলার ভয়াবহতা ও পরিকল্পিত চরিত্রই তুলে ধরে।
পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তারা হলো রোকন (৪০), হিরা (২৫) ও সিফাত (২২)।
তবে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কারা এই সন্ত্রাসীদের পেছনে ছত্রছায়া দিচ্ছে ?
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পুরান বন্দর চৌধুরীবাড়ী এলাকার হাবিবনগরে ঘটে যাওয়া এ হামলায় পুলিশের সদস্যদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত হানা হয়।
এএসআই সোহেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও এক সিএনজি চালক গুরুতর আহত হন। কনস্টেবল ফয়সাল আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—হামলার সময় কনস্টেবল ফয়সালের ব্যবহৃত শর্টগান ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। পরে চার ঘণ্টা পর সেটি উদ্ধার করা হলেও, এই ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি—শুধু গ্রেপ্তার নয়, এই সন্ত্রাসী চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা শুধু পুলিশের ওপর নয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপরই আঘাত।
দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাবে।








Discussion about this post