এনএনইউ রিপোর্ট :
মধ্যরাত ১২ টা ১০ মিনিট । নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিজিবি, পুলিশের বিশাল গাড়ী বহর । অসংখ্য নারীদের ভীড়। এরই মধ্যে থানার ভিতর প্রবেশ করলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুল কাদির । তদ্বির শুরু করলেন থানার বড় কর্তা ওসি কামরুল ইসলামের কাছে । কোন ভাবে কনসিডার (ছাড়) করা যায় কিনা জামায়াত শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতা শহরের নানা অপরাধের হোতা জয়নাল আবেদীনকে ।
এবারের মতো ছাড় দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুরোধ করতে দেখা যায় ওসির কক্ষে বসেই । আবদুল কাদিরকে ওসি কামরুল সাফ জানিয়ে দেন কোনভাবেই তদন্ত ছাড়া তাকে ছাড় দেয়ার উপায় নাই জয়নাল আবেদীনকে । এরপরও ওসির কক্ষেই ঠায় বসে থাকেন আওয়ামীলীগের এই নেতা ।
সোমবার রাত পৌনে ১০ টায় সদর মডেল থানায় জাতীয় পার্টির নব্য নেতা জয়নাল আবেদীন তার লাইসেন্স করা একটি অস্ত্র জমা দিতে এলে তা থেকে একটি গুলি বেরিয়ে যায় বলে জানায় ডিউটি অফিসার আনোয়ার । গুলিটি সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামের পাশ ঘেঁষে চলে যায়। এ সময় ওসি কামরুল ইসলাম বাসা থেকে থানায় প্রবেশ করে তার কক্ষে প্রবেশ করতে ছিলেন । অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম।
থানায় উপস্থিত লোকজন হকচকিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জয়নাল আবেদীনের লাইসেন্স করা গুলি ভর্তি পিস্তুলসহ জয়নাল আবেদীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে থানায় ছুটে আসেন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের আদেশে গতকাল সোমবার ছিল বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। রাত ৯টার দিকে জয়নাল আবেদীন তার লাইসেন্স করা পয়েন্ট থ্রি টু বোরের একটি পিস্তলটি সদর থানায় জমা দিতে আসেন। অস্ত্র নিয়ে তিনি ডিউটি অফিসারের কক্ষে যান। এরপর অস্ত্রটি নাড়াচাড়া করার সময় তা থেকে একটি গুলি বেরিয়ে যায় ।
এ বিষয়ে নব্য জাতীয় পার্টির নেতা জয়নাল আবেদীনের একাধিক স্ত্রী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তর কক্ষে এসে আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল কাদিরের পাশাপাশি স্বামীকে ছাড়াতে তদ্বির চারিয়ে আসছে । একই সাথে বিষয়টিকে জয়নালের স্ত্রীগণ চক্রান্ত বলে দাবী করেছেন।
এ সময় অনেকেই বলেন জয়নাল আবেদীন নানা অপরাধের পাশাপাশি এ পর্যন্ত পাচটি বিয়ে করেছে । সবশেষ এক নাতনীকে বিয়ে করে আবারো সমালোচনার পাত্র হয়েছেন জয়নাল ।
উল্লেখ্য, জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র ভুমিদস্যুতা করে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করা ছাড়াও জামায়াত শিবিরকে নানাভাবে অর্থ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। জামায়াত শিবিরে অগ্নি সন্ত্রাসী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জে জয়নাল আবেদীনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। কয়েক বছর আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছিরো জয়নাল আবেদীনের এমন অপরাধের তথ্য । এরপর চলতি বছরের জুন মাসে সে জাতীয়পার্টিতে যোগ দিয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে জামায়াত শিবিরের দূর্ণাম গুছাতে তৎপড়তা চালিয়ে আসছিলো । একই সাথে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পাটির কার্যালয় স্থাপন করে শহরের সদর থানা সংলগ্ন আল জয়নাল প্লাজার তৃতীয় তলায় ।









Discussion about this post