এনএনইউ রিপোর্ট :
বিএনপি সরকারের শাসনামলে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পিএস মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর ব্যবসায়ীক পার্টনার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বিশ্বরোড খালপাড় এলাকার হাজী লুতফর মিয়ার ছেলে লুৎফর রহমান বাদল ও তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের নামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিএনপি সরকারের শাসনামলে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেও গত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে নাান কেলেংকারী ধরা পরলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় বাদল । গত কয়েক বছর যাবৎ বিদেশে পারিয়ে থেকে মা, ভাইদের নামে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টার খবর বেড়িয়ে আসে গণমাধ্যমে। হাজার হাজার কোটি টাকার দূর্ণীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় বাদল। এই বাদলকে ব্যবহার করে রূপগঞ্জের অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে ।
রোববার ২০ জানুয়ারী দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য লুৎফর রহমান বাদল তার স্ত্রীর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা শেয়ারবাজার কারসাজির অভিযোগে একটি মামলা থাকায় আসামিরা সম্পদ হস্তান্তর ও স্থানান্তরের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। লুৎফর রহমান বাদল আইএফআইসি ব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালক।
দুদক সূত্রে জানা যায়, লুৎফর রহমান বাদলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ১৩০ কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৬ টাকার। তার স্ত্রীর সম্পদ ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৭ টাকার। জব্দ করা মোট সম্পদ প্রায় ২৬৮ কোটি টাকার। তবে এই সম্পত্তির বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
দুদক সূত্রে জানায়, ২০১৭ সালের ২৮ মে দুদকের উপ-পরিচালক শেখ আবদুস সালাম বাদী হয়ে লুৎফর রহমান বাদল ও তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের নামে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই মামলা হয়।
দুদক জানায়, আসামি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে পলাতক আছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামিরা সম্পদ হস্তান্তরের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব সম্পদ হস্তন্তর করলে বিচারের রায় শেষে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ ও জরিমানা আদায় একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়বে। তদন্তের স্বার্থে আসামি লুৎফর রহমান বাদলের নামে বিভিন্ন লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার মূলধন ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ এবং বাড়ি-ফ্ল্যাট ও জমি ক্রোক করার প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করার জন্য ঢাকার স্পেশাল জজ আদালতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে আছে লুৎফর রহমানের বনানীর পুরাতন ডিওএইচএসের ৫ নং রোডের ৬৮ নম্বর বাড়ি, বাড়িধারা মডেল টাউনের তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি, ধানমন্ডির রয়েল প্লাজা, বানানীর গলফ হাইটস, গুলশানের ভাটারার বাড়ি এবং কাকরাইল ও রমনার ভূমি জব্দ করা হয়েছে।
ফ্রিজ করা অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- সাউথ ইস্ট ব্যাংকের একক ও যৌথ হিসাব, ওয়েসিস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, সিনক্লিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের ১ লাখ টাকার শেয়ার, লতিফ সিকিউরিটিজস লিমিটেডের ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, বিসি করপোরেশনের ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, ডায়াপার লিমিটেডের ৬০ লাখ টাকার শেয়ার, বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশনের ১ কোটি টাকার শেয়ার, আল মানার হাসপাতালের ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার এবং অন্যান্য সম্পদ।
দুদক আরো জানায়, লুৎফর রহমান বাদল দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩ টাকার তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন ও ৫৯ কোটি ৭০ লাখ ৩৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অন্যদিকে, সোমা আলম রহমানের দুর্নীতি বিষয়ে বলা হয়েছে, সোমা আলমের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করা হয়েছে এবং ৯২ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ৩৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।









Discussion about this post