নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ আগামীকাল বুধবার হস্তান্তর করবে জেলা প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া ৪৮ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করে ৪৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জনের লাশ হস্তান্তর করা হবে।
আগামীকাল সকালে ২৪ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে গ্রহণ করার জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। কাল থেকে টানা তিন দিন শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পর্যায়ক্রমে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক শাখা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া লাশগুলো দেবে। সেখানেই জেলা প্রশাসন স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করবে।
প্রথম দিন যাঁদের লাশ হস্তান্তর করা হবে, তাঁরা হলেন নোয়াখালীর এনায়েত হোসেনের ছেলে মো. আয়াত হোসেন (১৯), একই জেলার হাতিয়ার আবুল কাশেমের ছেলে রাশেদ (২৫) ও আবুল বাশারের ছেলে তারেক জিয়া (১৫); কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে নাঈম ইসলাম, একই এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে সাগরিকা সায়লা, খোকন মিয়ার স্ত্রী জাহানারা (৩৮), ঝর্না আক্তারের মেয়ে ফারজানা (১৪) ও মো. সুজন মিয়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১৫); কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কাইউম মিয়ার মেয়ে খাদেজা আক্তার (১৬), ওই এলাকার নিজাম উদ্দিনের মেয়ে শাহানা আক্তার (১৮), মাহতাব উদ্দিনের স্ত্রী শাহানা আক্তার (৪৪) ও গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. মুন্না (১৬); গাইবান্ধার হাসানুজ্জামান সরকারের মেয়ে নুসরাত জাহান টুকটুকি; নেত্রকোনার কবির মিয়ার মেয়ে হিমা আক্তার; খালিয়াঝুড়ি এলাকার আজমত আলীর মেয়ে তাকিয়া আক্তার; পাবনার সুধানগর এলাকার শাহাদাৎ খানের ছেলে মোহাম্মদ আলী; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বেলাল হোসেনের মেয়ে মিতু আক্তার; ওই এলাকার জায়েদ মিয়ার স্ত্রী ফিরোজা (৩৬); বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার নয়ন মিয়ার মেয়ে নাজমা খাতুন; হবিগঞ্জের লাখাই এলাকার আবদুল মান্নানের মেয়ে ইশরাত জাহান; রাজধানীর ডেমরা এলাকার নাজমা বেগম (৩৫); গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার লিলি বেগমের ছেলে রিপন মিয়া (১৮); ভোলার চরফ্যাশন এলাকার কবির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন (১৫) ও নরসিংদীর শিবপুর এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে রিয়া আক্তার (৩০) ।
আগামীকাল জেলা প্রশাসনের কাছে সিআইডি লাশগুলো বুঝিয়ে দিলে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত ২৪ জনের স্বজনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি লাশ দাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ
নিহত আয়াতের হোসেনের বাবা এনায়েত হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলের লাশ নেওয়ার জন্য হাসপাতালসহ তিন জায়গা থেকে তাঁকে ফোন করেছিল। তিনি লাশ নেওয়ার জন্য রাতেই রওনা দেবেন। তবে চলমান বিধিনিষেধে আসা-যাওয়া নিয়ে ভোগান্তি হবে বলে শঙ্কা তাঁর।
নিহত নাঈমের বাবা তাহের উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সিআইডি তাঁদের ফোন করে জানিয়েছে যে কাল বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছেলের লাশ গ্রহণ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। আগামীকাল জেলা প্রশাসনের কাছে সিআইডি লাশগুলো বুঝিয়ে দিলে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত ২৪ জনের স্বজনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি লাশ দাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। কাল থেকে টানা তিন দিন পর্যায়ক্রমে অন্য লাশগুলোও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে ৪৮টি লাশের মধ্যে ৪৫টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ৩টি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
৮ জুলাই রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যাওয়া তিনজনের লাশ তখনই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি লাশগুলো আগুনে এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে সেগুলো শনাক্ত করার উপায় ছিল না। ফলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশগুলোর পরিচয় শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে ৪৮টি লাশের মধ্যে ৪৫টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ৩টি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে গত ১০ জুলাই কারখানা মালিক আবুল হাসেম, তাঁর চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই আবুল হাসেম, তাঁর চার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতাারের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই হাসেম ও তাঁর চার ছেলে জামিনে মুক্তি পান।
তবে হাসেম ফুডস কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ, উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বর্তমানে কারাগারে আছেন। গত ১৫ জুলাই মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৮ জুলাই সিআইডি আট আসামিকে রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত ৮ আগস্ট রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন।









Discussion about this post