রিমান্ডে থাকা আসামীর ভাষ্যমতে নারায়ণগঞ্জের হাতে গোনা কয়েকটি সিন্ডিকেট এই মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । সেই তথ্যানুযায়ী এবার চক্রের হোতাদের ধরতে অপরাধীদের মুখোষ উম্মোচনের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ।
নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট :
কুখ্যত মাদক সম্রাট বিটু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইব্রাহিমের বিশাল চালান গোয়েন্দা পুলিশ আটক করলেও এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে ইব্রাহিমসহ মাদক ব্যবসার মূল হোতারা ।
একই সাথে বিমাল মাদক বহনের কাজে নিয়োজিত পরিবহণ মালিকের নাম আড়াল করতে চলছে নানাভাবে তৎপড়তা । এই ঘটনায় এরই মধ্যে বেড়িয়ে আসছে রাঘব বোয়ালদের অনেকের নাম ।
শুক্রবার (৩০ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১১টায় ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা -নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের পাশে একটি প্রাইভেট কারসহ মাদকের বিশাল চালান আটক করেছে বলে জানা যায় । এ সময় প্রাইভেট কার চালক মোক্তার হোসেনকে (৪৮) আটক করেছে বলে জানায় গোয়েন্দা পুলিশ ।
রিমান্ডে থাকাবস্থায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে প্রাইভেটকার চালক মোক্তার হোসেন । নারায়ণগঞ্জে এই মাদক ব্যবসার সাথে কারা কারা জড়িত তার একটি তালিকাও প্রদান করেছে মোক্তার । এমন তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তে মাঠে নেমেছে পুলিশ ।
এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফতুল্লার গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুক এ নানা মন্তব্য করে সরব থাকায় ব্যাপকভাবে সকলে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে মাদকের এমন কর্মকান্ড নিয়ে ।
খোকন প্রধান তার ফেসবুক ওয়াল লিখেছেন :
“মাদক সম্রাট ইব্রাহিম কে রক্ষা করতে মিশনে নেমেছে কেউ কেউ, ডিবি পুলিশের চৌকশ এসআই কামরুল হাসান (পিপিএম) এর বিশেষ অভিযানে একটি প্রাইভেটকারসহ বিশাল মাদকের চালান আটক হওয়ার পরে আটককৃত মাদকের মালিক ইব্রাহিম কে আটকের জন্য ডিবি পুলিশের টীম অভিযান চালাচ্ছে। ঠিক সেই সময় মাদকের গডফাদার ইব্রাহিম কে মামলা থেকে বাচাঁতে এ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কেউ কেউ ।
প্রত্যক্ষ দর্শীদের সুত্রে জানা গেছে গত রমজান মাসের শেষ দিকে মাদক সম্রাট ইব্রাহিম কে ফতুল্লা থানার একজন দারোগা পিলকুনী এলাকা থেকে আটক করার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অন লাইন নিউজ পোর্টাল উজ্জ্বীবিত বাংলাদেশ এর সাংবাদিক যিনি ফতুল্লার রিপোর্টার্স ইউনিটি নামক একটি সাংবাদিক সংগঠনের সাধারন সম্পাদক । ঐ সাংবাদিক নেতার তদবিরে অভিযানকারী পুলিশের এসআই ঘটনাস্থল থেকে মাদক সম্রাট ইব্রাহিম কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা কারী ফতুল্লা মডেল থানার ঐ এসআই জানায়, হ্যাঁ ইব্রাহিম কে আটক করেছিলাম তার কাছে কিছু পাওয়া যায় নি, এসময় উজ্জীবিত বাংলাদেশ এর সাংবাদিক ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক সোহেল ভাই এসে গ্যারান্টি দিয়ে বললো ভাই ইব্রাহিম আমার আত্মীয়, সে ভালো ছেলে তখন তাকে তার অনুরোধ ছেড়ে দিয়েছি তবে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। পরের দিন এই শীর্ষ মাদক সম্রাট ইব্রাহিমের একটি বিশাল মাদকের চালান প্রাইভেট কার সহ আটক করে গুলশান থানার একটি টীম আর সেই সময়ও মাদকের চালান সহ আটক হন ইব্রাহিমের গাড়ী চালক মোক্তার হোসেন । কয়েক মাস মোক্তার হোসেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকার পরে তার গডফাদার ইব্রাহিম হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের করেন গাড়ী চালক মোক্তার হোসেন কে। এক সময়ে নাঃগঞ্জের তামাকপট্রি এলাকায় বসবাস করা ইসমাঈল হোসেন মুন্সীর ছেলে মাদক সম্রাট ইব্রাহিম জীবনের শুরুতে শহরের চাষাড়া ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ডে চা-পান বিক্রি করে জীবন যাপন করলেও পরবর্তীতে সে গাড়ী চুরি চক্রের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন এবং বিদেশী মদ বিয়ার, ফেনসিডিল আর ইয়াবার ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়ার বছর খানেক এর মধ্যে হয়ে উঠেন শহরের অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী । সুত্রে জানা গেছে যে চতুর এ-ই মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মাদক ব্যবসার প্রসার করতে বিয়ে করেছেন ৩টি আর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসাবে থেকে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন তার মাদকের জমজমাট ব্যবসা। মাদক সম্রাট ইব্রাহিম কে ডিবি পুলিশের একটি টীম ফতুল্লার শিহাচর এলাকা থেকে ইয়াবা সহ আটক করলেও মাত্র কয়েক দিনে সে জামিনে বের হয়ে আসেন এর পরে তক্কার মাঠ এলাকার একজন সাংবাদিকের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করে তার মাধ্যমে এই এলাকায় অবাধে চলাফেরা করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে স্হানীয় লোকজনের চোখে ধূলি দিতে ঐ সাংবাদিকের পিতার মাধ্যমে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে কনফেকশনারীজ ব্যবসা করার সাইন বোর্ড লাগিয়ে শুরু করতে থাকেন তার মাদকের ব্যবসাটি । উল্লেখ্য যে নাঃগঞ্জ ডিবি পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক মাস কারাগারে থাকার পরে জামিনে বের হয়ে আসেন মাদক সম্রাট ইব্রাহিম, ঠিক এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে ঢাকা মিন্টো রোডের একটি টীম একটি ট্রাক সহ মাদক সম্রাট ইব্রাহিমের একটি ফেনসিডিলের চালান আটক করে। সে অভিযানে ৩শত বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে মিন্টো রোডের অভিযান কারী টীম । ট্রাক চালক কে আটক করার পর মিন্টো রোডের টীম আটক কৃত চালকের কাছ থেকে ফেনসিডিলের মূল মালিক ইব্রাহিমের নাম জানতে পেরে কৌশলে ঐ চালকের মাধ্যমে গাড়ী নষ্ট হয়ে গেছে এমন কথা বলে ফোনের মাধ্যমে ইব্রাহিম কে ঘটনাস্হলে ডেকে নিয়ে আসলে কিছু ক্ষনের মধ্যে একটি হোন্ডা দিয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে যায় পরে অভিযান কারী টীম ইব্রাহিম সহ গাড়ীর চালক কে আটক করে ৩শত বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন এ ঘটনায় বেশ কিছু দিন ইব্রাহিম কারাবাস করার পরে জামিনে বের হয়ে আসেন।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ (বিপিএম বার, পিপিএম বার) এর নিকট ফতুল্লা বাসীর দাবী মাদক সম্রাট ইব্রাহিম শীর্ষ পর্যায়ের চিহ্নিত সকল মাদক সম্রাট কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক”
কমেন্টস করেছেন :
এত খবরতো আমরাও জানি না। তবে ঘটনা সত্য হলে শেল্টার দাতাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তদন্তপূবর্ক ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা। তবে অনেক কিছুই লিখতে মন চাচ্ছে। কিন্তু মানবিক বিবেচনায় পারছি না। তবে একটা প্রশ্ন-এখন মুরুব্বী কি বলবে? কিছুই বলবে না! কারন, মুরুব্বীর ছেলেইতো ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধ করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি উল্টো প্রমোশনের মাধ্যমে পদবী বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে আমার মনে হয় সাংবাদিক সোহেল ভাল ছেলে। মাদক ডিলার ইব্রাহীমের জন্য তদ্বীরটাই কাল হলো। তদ্বীরটা যদি স্বাথের্র জন্য হয় তাহলে সোহেল এখানে অপারাধ করেছে। আর যদি সোহেল মাদক ডিলার ইব্রাহিমের বিষয়ে অবগত না হয়ে আত্বীয়তার দায়বদ্ধ থেকে অনুরোধ করে থাকে তাহলে সোহেলকে দোষ দেয়া আমার মনে হয় ঠিক হবে না। সোহেলের সাথে যতদিন যাবৎ সম্পর্ক্য এখনো মাদক সংক্রান্ত কোন বিষয়ে আমি দেখিনি।
খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে পার্শবর্তী দেশ ভারতে পলাতক নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ মাদক কারবারী সালাউদ্দিন বিটু বিদেশে বসেই নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে । এর পিছনে রয়েছে জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্টজনদের অনেকেই । ইব্রাহিম নিতাইগঞ্জর এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাট বিটু বাহিনীর সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী । এই চক্রটি প্রশাসন, বিশেষ পেশার লোকজন ও রাজনীতিবিদদের নানাভাবে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা কারবার ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা এস,আই কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে (ঢাকা মেট্টো-গ-১২-৯৮৫৮) প্রাইভেটকার আটক করে।এ সময় প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশী চালিয়ে ৭‘শ ১৯ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয় এবং আটক করা হয় প্রাইভেটকার চালক মোক্তার হোসেন কে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে বিশাল মাদকের মজুদ ছিলো নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ী কয়েকটি চক্রের হাতে । শহরের টানবাজার ছাড়াও আমলাপাড়া, মিশনপাড়া, তল্লা, দেওভোগ, পাইকপাড়া, নলুয়াপাড়া, নিতাইগঞ্জে বিশাল মাদকের মজুদ ফুরিয়ে আসায় আবার মাদকের বিশাল বিশাল চালান আসছে নারায়ণগঞ্জে । সদর উপজেলা ছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় রাজনৈতিক, বিশেষ পেশার নামধারী ও স্থানীয় প্রশাসনের অসাধু লোকজনের শেল্টারেই চলছে এমন রমরমা মাদক ব্যবসা । মাংশের সাথে মদ বিয়ারের একটি সম্পর্ক থাকায় কোরবানীর ঈদের সময় মদ ও বিয়ারের বিশাল চাহিদা থাকে । এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা বিশাল চালান মজুদ করে ।ন
Discussion about this post