কঠোর সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নব ঘোষিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিতেরও দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সদস্য ব্যবসায়ী গোলাম সারওয়ার সাঈদ।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সভাপতির পদ থেকে খালেদ হায়দার খান কাজল পদত্যাগ করার পরে অতি চাতুর্যতার সাথে ফ্যাসিবাদের দোসর মোরশেদ সারওয়ার সোহেল গং মাসুদুজ্জামানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কো-অপ্ট করেন।
সেই সাথে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের আত্মস্বীকৃত খুনি পরিবারের ব্যক্তিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজির টাকা ফেরত দেয়া নিয়েও স্ট্যান্টবাজি করা হয়েছে। বিগত দিনে মাসুদুজ্জামান আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন, স্বৈরাচারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যার পুরস্কার স্বরূপ শেখ হাসিনার সরকার তাকে সিটিজেন ব্যাংক উপহার দিয়েছিল। তিনি কত কোটি টাকা শেখ পরিবারকে দিয়েছেন এইটা নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে চায়। স্বৈরাচার সরকারের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি গত ১৬ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন, এই বিষয়টি সরকারকে দেখতে হবে। সেইসাথে তাকে প্রমাণ করতে হবে কাকে তিনি চাঁদা দিয়েছেন এবং কে ফেরত দিয়ে গেছে। বিগত ১৬ বছরে তিনি কত টাকা চাঁদা দিয়েছেন সেটিও তাকে জনসমক্ষে বলতে হবে।
মাসুদুজ্জামানের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদের দোসরদের চেম্বার অফ কমার্সে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।
তারই অংশ হিসেবে তার নিজস্ব বলয়ের কিছু ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে শনিবার চেম্বার অব কমার্সের এজিএম করতে যাচ্ছেন। গঠনতন্ত্রের আলোকে কমপক্ষে সাত দিন পূর্বে সাধারণ সভার নোটিশ সকল সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তিনি সুকৌশলে তার বলয়ের লোকের বাইরে কাউকে দাওয়াত দেননি। চেম্বারের সদস্য হলেও অন্তত ২’শ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে যারা এজিএমের কোন চিঠি পাননি। তাই শনিবারের এজিএম স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। কমিটিতে ফ্যাসিস্টদের দোসর থাকায় মাসুদুজ্জামানসহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচন দিতে হবে।
যদি এজিএম স্থগিত করা না হয় এবং ফ্যাসিস্টদের দ্বারা পরিচালিত এই কমিটি পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা নিয়ম মোতাবেক পদক্ষেপ নিব।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন ব্যবসায়ীরা। দাবিগুলো হচ্ছে- মাসুদুজ্জামানসহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পদত্যাগ করতে হবে এবং নির্বাচন দিতে হবে। বিএনপি ও জামায়াতকে নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে, চাঁদাবাজির টাকা তারা নিয়েছে কিনা ?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র জনতাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কিভাবে মূল্যায়ন করবে ? সেহেতু নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সকল সাধারণ সদস্যবৃন্দ তাই সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে যদি ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রেতাত্মা দখলদারিত্ব করতে চায় তাহলে সাধারণ সদস্যরা প্রতিরোধ করবে এবং এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।









Discussion about this post