কুড়ি বছর পূর্বে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফতুল্লার (সাবেক খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়াম) শহীদ রিয়া গোপ স্টেডিয়াম।
সেই স্টেডিয়াম বর্তমানে পড়ে আছে রুগ্ন অবস্থায়। মূল মাঠ বা বাইরের মাঠ- কোনটিই খেলাধুলার উপযুক্ত নয়।
আজ রোববার (২৪ আগষ্ট) ফতুল্লার রিয়া গোপ স্টেডিয়াম দেখতে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘স্টেডিয়ামটির করুণ অবস্থা দেখে আমার কান্না চলে আসছে।’
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আইডিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল।
এরপূর্বে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ফতুল্লা রিয়া গোপ স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজের পরিদর্শন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুলবুল বলেন, ‘এই নারায়ণগঞ্জ আমাদের জন্য এক সময় আদর্শ ছিল। কেননা এখানের ক্রিকেটের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। আমি যখন নিজেই ক্রিকেট খেলা শিখছিলাম। তখন নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আমার এক সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন এখানে বিভিন্ন লিগ অনুষ্ঠিত হতো। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ক্লাবে তখন খেলা হতো। নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য খেলোয়াড় ঢাকায় খেলতো। এখনো নারায়ণগঞ্জের মানুষের ক্রিকেটের প্রতি যে আগ্রহ দেখলাম, তাতে আমি ভীষণ আনন্দিত।
তিনি বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমি ফতুল্লা স্টেডিয়ামে গিয়েছিলাম। স্টেডিয়ামটির করুণ অবস্থা দেখে আমার কান্না চলে আসছে। এখানে এক সময় অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। অথচ এই মাঠটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত করুণ।’
বুলবুল আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ সুবিধা দরকার। এখানে এসে ৩টা উইকেট দেখতে পেলাম। আমাদের পরিকল্পনা এখানে অন্তত ২০টা উইকেট বানানোর। আমাদের সময় বছরের নির্দিষ্ট সময় ক্রিকেট খেলা হতো। এখন ১২ মাসই খেলা হয়। আমাদের খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি কোচিংয়ের সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করবো।’
বুলবুল নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট জীবনের ছোট্ট একটি অংশ। আমার সামনে আজ ভবিষ্যতের ক্রিকেটাররা বসে আছেন। আমি জানি এখানে সম্ভাবনাময় অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা আগামী দিনের তামিম, সাকিব হবে। আমার ইচ্ছা নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম করবো।’
নারায়ণগঞ্জে ক্রিকেটের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আশা করছি আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে এসব উন্নয়ন করবো। নারায়ণগঞ্জের খেলোয়াড়দের বিভিন্ন লেভেলে খেলার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়। নারায়ণগঞ্জেই তারা কোচ পাবেন। সবকিছুই আমাদের পাইপলাইনে রয়েছে। আমি আজ যেসব কথা বলছি, তা যেনো বাস্তবায়ন করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এসব কাজের কথা বলছি। কারণ আইসিসিতে থাকাকালে আমি এই কাজগুলোই করে এসেছি।’









Discussion about this post