আদালত প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে মামলার হাজিরা দিতে এসে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আদালত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ী মো. ইরফান মিয়া, তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও দুই সন্তানসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ইরফানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান, তাঁর ল ফার্মের জুনিয়র আইনজীবী খোরশেদ আলম, আল-আমিন ও সহকারী (মুহুরি) হিরণ বাদশাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্যবসায়িক বিরোধ থেকে মামলা
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদী ইরফান মিয়া ব্যবসায়িক লেনদেনে ইসমাইল নামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ লাখ টাকা পান। দীর্ঘ এক বছরেও ওই টাকা পরিশোধ না করায় ইরফান আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ইসমাইলের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান।
আজ মামলার হাজিরার তারিখ থাকায় বাদী ইরফান মিয়া ও তাঁর পরিবার আদালতে গেলে বিবাদীপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে বাদীকে দেখে সাখাওয়াত হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে আদালত থেকে চলে যেতে বলেন। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে সাখাওয়াতের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা ইরফান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন আইনজীবী ও সহকারীকে বাদীপক্ষকে ঘিরে মারধর করতে। এতে সাখাওয়াতের ফার্মের জুনিয়র খোরশেদ আলম, আল-আমিন ও মুহুরি হিরণ বাদশাকে চিহ্নিত করার দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
ইরফানের ছেলে জিদান বলেন, “আদালত প্রাঙ্গণে আমার বাবাকে দেখে সাখাওয়াত হোসেন হুমকি দিতে শুরু করেন। পরে তাঁর নির্দেশে কয়েকজন আইনজীবী বাবাকে মারধর করেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও আঘাত করা হয়।”
নিজের আঘাতের কথা জানিয়ে জিদান আরও বলেন, “আমি একজন প্রফেশনাল বক্সার। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছি। আমার ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকিতে।”
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ অস্বীকার করে আইনজীবী আল-আমিন বলেন, “আদালতপাড়ায় কয়েকজন আমাদের মুহুরিকে মারছিলেন। আমরা সেটা ঠেকাতে গেলে ধস্তাধস্তি হয়েছে, মারধর নয়।”
বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খানও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, “ভিডিওতে যাঁরা দেখা গেছে, তাঁরা আমার পরিচিত হতে পারেন, কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার জন্যই এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে।”
ঘটনাটি আদালতপাড়ায় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে; প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Discussion about this post