মহানগর সংবাদদাতা :
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলীয় অনুগতদের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সাবেক শাসনামলে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে আবারও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত “এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ও উত্তরণের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করে।
সভায় উপস্থিত থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল-আলামিন বিকেএমইএ সভাপতি হাতেমকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আজ স্টেজে এমন একজনকে দেখলাম, যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, অথচ এখন নিজেকে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এই ব্যক্তি গণঅভ্যুত্থানের শত্রু। তাকে এ আয়োজনের মঞ্চে স্থান দেওয়া দুঃখজনক।”
আল-আমিন আরও বলেন, “হাতেম সারাজীবন ওসমান পরিবারের দালালি করেছেন। এখন সরকারের পতনের পর আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত দেখানোর চেষ্টা করছেন। এ ধরনের লোকদের সামনে আনা মানে অভ্যুত্থানের চেতনায় আঘাত হানা।”
তিনি সমালোচনামূলকভাবে প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি এত দ্রুত সব ভুলে যাচ্ছি ? শেখ হাসিনার সভায় উপস্থিত থেকে যিনি ছাত্রদের দমন নিয়ে পরামর্শ দিতেন, আজ তিনিই কি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উপদেশ দেবেন ?”
সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়েও আলোচনা হয়। আব্দুল্লাহ আল-আমিন বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। ছাত্রদের মধ্যে আন্দোলন-পরবর্তী মানসিক ট্রমা দেখা দিচ্ছে। তাদের পড়াশোনায় ফেরাতে সার্বিক জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শেখ হাসিনার আমলে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও অটোপাসের মতো দুর্বলতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু করেছে। এই দুর্বলতাগুলো নতুন প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা।”
বিকেএমইএ এর চরম বিতর্কিত বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এরপূর্বেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানাভাবে প্রকাশ্যে কঠোর সসমালোচনার মুখে পরলেও কোন লাজলজ্জা যেন নাই এই ওসমানীয় পরিক্ষীত দালালের। এমন মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেউ কেউ বলেন, “হাতেম তো কানকাটা রমজান ! তার কোন লাজলজ্জা নাই। অতি দ্রুতই ই দেখবেন কোন কোন মুখপাত্র ডেকে নিয়ে নানাভাবে প্রচার চালাবেন নিজের পক্ষে। আর তাতেই আজ ৪ নভেম্বরের এমন প্রকাশ্য লজ্জা ঝেটে ফেলার চেষ্টা করবেন। এই নির্লজ্জ ওসমানীয় দালাল হাতেম কে টিকিয়ে রেখেছে বিএনপি জামায়াতের কিছু নেতা তা কিছু বিশেষ পেশার কয়েকজন কুলাংগার চক্র। দেখবেন ওই কুলাংগার চক্র দুই একদিনের মধ্যেই এই ওসমানীয় চিহ্নিত দালাল হাতেমের পক্ষে সাফাইনামা প্রচার করে হাতেমের অপকর্ম মুছে ফেলার চেষ্টা করবেন।”
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ হাতেম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার অবস্থান বদলে যাওয়া নিয়ে নানামুখী সমালোচনা চলছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে।









Discussion about this post