মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূলহোতা মো. শফিক (২৪)কে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ. এম. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গুলশান-১ এর ১৩৭ নম্বর সড়কের এমএস গ্রুপের সামনে অভিযান চালিয়ে শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত শনিবার (৮ নভেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—সাইদুল (৪৯), নাজমুল হোসেন (২১), শামসু (২৮), ফয়সাল (২৪) ও রাশেদ (২২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে তার মা বিদেশ যাওয়ার আগে অভিযুক্তদের একজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধের পরও ওই ব্যক্তি দলিল ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিলেন।
গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দলিল ফেরতের কথা বলে অভিযুক্তরা তরুণীকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ডেকে নেয়। পরে তারা কৌশলে মাইক্রোবাসে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা তরুণীকে সাইনবোর্ড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই মূলহোতা শফিক আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তার শফিককে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
👉 র্যাবের কর্মকর্তা বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ। মূলহোতা শফিকসহ অভিযুক্তরা দলিল ফেরতের অজুহাতে তরুণীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।”
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর সিদ্ধিরগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post