নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জ | ১২ নভেম্বর ২০২৫
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড ঘিরে বর্তমানে তিনি কঠিন সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে শোনা যায়, বিএনপির এই প্রার্থী এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনালাপে নিজেকে ঘিরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অডিও অনুযায়ী, সাংবাদিক অভিযোগ করেন—মোগরাপাড়া চৌরাস্তার ফুটপাত, সরকারি জায়গার সিএনজি ও বাসস্ট্যান্ড এবং মেঘনা টোল প্লাজা দখলের ঘটনায় মান্নানের ছেলে জড়িত।
জবাবে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “আগে গিয়া নিজেরা তদন্ত কইরা হিয়ার (এর) পরে পত্রিকায় লেখেন। তাইলে আমি, আমার পোলায় গিয়া মোগরাপাড়া বাসস্ট্যান্ড খাই, ফুটপাত খাই… সারা বাংলাদেশেই বিএনপির পোলাপান করে। ঢাকাতে মির্জা আব্বাসের পোলাপান হগল (সবাই) করে, দেখতে চান আপনে ?”
তিনি আরও বলেন, “হেই দেড় বছর আগে টোল প্লাজায় কী অইছে, আমরা বাপ পুতে ঢাকায় ছিলাম… আপনের লগে তর্ক করতে রাজি না। আপনের পত্রিকা দেইক্খা কথা কমু।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন বলে অডিওতে শোনা যায়।
এই অডিও প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন বলেন, “তিনি কিসের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করলেন, আমার বোধগম্য নয়। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করেছে। এতে আমাদের সম্মানহানি ঘটেছে।”
এর আগে গত ৪ নভেম্বর আজহারুল ইসলাম মান্নানের জামাতা মাসুম বিল্লাহর দেওয়া এক হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সেদিন অলিপুরা বাজারে এক সমাবেশে তিনি বলেন, “সাবধান, হুঁশিয়ার, লাস্ট ওয়ার্নিং। এরপর কোনো ওয়ার্নিং হবে না। আজহারুল ইসলাম মান্নানের পক্ষে কাজ করবেন। ব্যত্যয় হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।”
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে এ বক্তব্যের নিন্দা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “এ বিষয়ে ফোনে কথা বলতে চাই না। সামনাসামনি আসেন, কথা বলি।” তিনি দাবি করেন, “যে সাংবাদিকের সঙ্গে আমার কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে, তিনি আমার প্রতিপক্ষের বানানো সাংবাদিক।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই মান্নান ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্য ও আচরণ দলের ভেতরে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই বিতর্ক বিএনপির প্রার্থীকে আরও চাপে ফেলতে পারে বলেও তারা মনে করেন।









Discussion about this post