ফতুল্লা প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে ও দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত–বিতর্কিত আজমির ওসমানের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হোসেন রেজার বিপুল সম্পদ রক্ষায় কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শাহীন কাদের দায়িত্ব নিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে।
এ ঘটনায় ফতুল্লার কাশিপুর ও নরসিংপুর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অতীতের পটভূমি : ক্ষমতাসীনদের পতনের পর পালিয়ে যান আজমির
সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাসীন দলের বহু নেতা–মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। সে সময় আজমির ওসমানও এলাকা ত্যাগ করেন। তার অনুপস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা তার বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
হোসেন রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ
নিতাইগঞ্জ এলাকায় বহু বছর ধরে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে আজমিরের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হোসেন রেজার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ যেত আজমিরের হাতে।
এভাবেই হোসেন রেজা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিকানা গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ—আজমিরের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি চর কাশিপুর ও নরসিংপুর এলাকায় জমি দখল, জোরপূর্বক ক্রয়-বিক্রয়সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ অংশের সহযোগিতা ও শাহীন কাদেরের সঙ্গে সম্পর্ক
স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন কাদেরের মামা আওলাদ মাদবর ও তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মামুন বিভিন্ন সময় হোসেন রেজাকে সহযোগিতা করেছেন।
এই সহযোগিতা থেকেই শাহীন কাদের ও হোসেন রেজার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরি হয় বলে জানা যায়।
সম্পদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি শাহীন কাদেরের নামে—সূত্র দাবি
একাধিক সূত্রের দাবি, হোসেন রেজার বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বর্তমানে নাকি শাহীন কাদেরের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি অঙ্গসংগঠনে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যাদের কারণে বিএনপির বহু নেতা–কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সম্পদ রক্ষায় দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা এগিয়ে যাওয়াটা দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ : ‘বিবেক বিসর্জন’
নরসিংদীপুর ও কাশিপুরের অনেক বিএনপি নেতা–কর্মী অভিযোগ করেন—“যারা বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, আজ তাদের সম্পদ রক্ষা করতে দলের ভেতর থেকেই কেউ দায়িত্ব নিলে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।”
একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—“প্রাণ থাকলে প্রাণী হওয়া যায়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না। টাকা–বাণিজ্যের লোভে বিবেক বিসর্জন দিলে তা পুরো সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর।”
শাহীন কাদেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে জানতে শাহীন কাদেরের মোবাইলে বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে হালনাগাদ করা হবে।









Discussion about this post