নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গভীর রাতে টহলরত পুলিশের সিএনজি অটোরিকশাকে যাত্রীবাহী যান ভেবে হামলা চালিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
রবিবার দিবাগত (২৪ নভেম্বর) ভোররাতে আড়াইহাজার–বিশন্দদী সড়কের জালাকান্দি এলাকায় ঘটে এ দুঃসাহসিক ঘটনা—যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ডাকাতদের বেড়ে ওঠা বেপরোয়া মনোবৃত্তির আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাত ৩টার দিকে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল মারুফসহ পুলিশের একটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় হঠাৎ একটি ডাকাত দল তাদের সিএনজিকে থামিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে কনস্টেবল মারুফ ডাকাতদের একজনের হাতে থাকা রামদা ছিনিয়ে নেন। পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে না পেরে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কনস্টেবল মারুফ সামান্য আহত হয়েছেন।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, “ডাকাতরা বুঝতে পারেনি এটি টহলরত পুলিশ সদস্যদের সিএনজি। তারা হামলা চালানোর সাথে সাথেই আমাদের সদস্যরা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ডাকাত চক্রটিকে শনাক্তে কাজ চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, মূল সড়কে রাতে ডাকাতদের এমন দুঃসাহসিক সাহস জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে—চক্রটি আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত রামদাটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসন বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট—অপরাধীরা সুযোগ পেলেই যেকোনো যানবাহনকে টার্গেট করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটিতে রাতে দ্রুত টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তাদের ভাষ্য—“পুলিশের গাড়িতে ডাকাতি হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ?”
ডাকাত চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলে নিশ্চিত করেছে থানাপ্রধান।









Discussion about this post