নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী আলিফা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
শিশু নিরাপত্তা, সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক আশপাশে লুকিয়ে থাকা নরপিশাচদের ভয়ংকর বাস্তবতা আবারও নগ্নভাবে সামনে এসেছে এই ঘটনায়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সাল ওরফে বাদশা (৩০)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোর্শেদ। গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল মানিক মিয়ার ছেলে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ ভাড়া বাসা থেকে খেলতে বের হয় আলিফা। এরপর আর ফিরে আসেনি সে। পরিবারের উদ্বেগ চরমে পৌঁছায় রাত গড়িয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায়।
পরদিন রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি একটি অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন—সে আলিফাই।
শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোক আর ক্ষোভের ছায়া। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়। নিহত আলিফার মা পারভিন বেগম বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ সদর কোম্পানি গোয়েন্দা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বন্দর থানার সোনাকান্দা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বন্দর থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ হোসেন জানান, তদন্তের সময় আলিফার ব্যবহৃত এক জোড়া জুতা তার বাবার নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জুতা জব্দ করা হয়, যা হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও ভয়াবহ তথ্য হলো—গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাব-১১-এর সিনিয়র এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একটি নিষ্পাপ শিশুর এভাবে প্রাণ ঝরে যাওয়া কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি সমাজের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্কুলে যাওয়ার বয়সে একটি মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে হয়, আর ঘাতক লুকিয়ে থাকে আশপাশেই—এই বাস্তবতা ভয়ংকর বার্তা দেয় আমাদের সমাজকে।
আলিফা হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, এই নির্মমতার বিচার কত দ্রুত ও কতটা দৃষ্টান্তমূলক হয়।









Discussion about this post