নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রকে টেকসই ও নিরাপদ পথে এগিয়ে নিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও মেরামতের জন্য সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় এ ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে—এই সহাবস্থান ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে হবে।
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোররাত চারটায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সিলেট জেলা থেকে শুরু হওয়া বিএনপির ধারাবাহিক নির্বাচনী সমাবেশের শেষ পর্ব ছিল এই জনসভা।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ একটি নিরাপদ রাষ্ট্র ও বাস্তব পরিবর্তন চায়—যেখানে নাগরিকরা নির্বিঘ্নে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার প্রকৃত সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত ভোটাধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সঠিকভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের আগে একটি গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ভোটকে প্রভাবিত করতে নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রবাসীদের ব্যালট দখলের চেষ্টাও চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি অতীতের ‘নিশিরাতের নির্বাচন’ ও ভোট ডাকাতির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ বেকার তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। শুধু গার্মেন্টসনির্ভর অর্থনীতি নয়, নতুন শিল্প স্থাপন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
নারী ও কৃষকদের জন্য আলাদা কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তিনি। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, ঋণ ও বিমা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পুনরায় খাল খনন কর্মসূচি চালুর কথাও বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, খাল খননের ফলে কৃষক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যাও কমবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ধানের শীষ ও খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ।
এতে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।









Discussion about this post