নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়িসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশে প্রবেশ করা এসব পণ্য জব্দের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জে চোরাচালান রোধে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ জানুয়ারি ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় একটি সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে আটক করা হয় একজন পাচারকারীকে।
জব্দকৃত মালামাল, ভ্যান ও আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তবে এই সফল অভিযানের আড়ালে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা একাধিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে ‘ম্যানেজ’ সম্পর্ক বজায় রেখে কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিবি পুলিশ, জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের বাইরে থাকা কিছু সংস্থার নিষিদ্ধ ক্যাশিয়ারদের মাধ্যমে মাসিক লেনদেনের বিনিময়ে চোরাচালান নির্বিঘ্নে চলেছে।
বিশেষ করে কুমিল্লাভিত্তিক একটি শক্তিশালী প্রায় ২৫ সদস্যের চোরাকারবারি সিন্ডিকেট দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য দেশে ঢুকিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর ফলেই নারায়ণগঞ্জের বাজারগুলো ভারতীয় কাপড়, শাড়ি ও অন্যান্য পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে।
রমজান ও ঈদ সামনে রেখে চোরাকারবারিরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এমন সময়েই এত বড় চালান ধরা পড়া প্রশ্ন তোলে, এতদিন এই সিন্ডিকেট কীভাবে অদৃশ্য রয়ে গেল ? কেন শুধু কোস্ট গার্ডের হাতেই বারবার বড় চালান ধরা পড়ে, অথচ অন্যান্য সংস্থার অভিযানে তেমন কোনো দৃশ্যমান সাফল্য নেই ?
সচেতন মহলের মতে, যদি অবিলম্বে জেলা প্রশাসনের আওতাধীন সব সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা না হয়, তবে চোরাচালানবিরোধী লড়াই কার্যত লোক দেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
একই সঙ্গে অভিযুক্ত ‘ম্যানেজ ক্যাশিয়ার’ ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই ঘটনায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও, নারায়ণগঞ্জে চোরাচালানের পেছনের অদৃশ্য ছায়া ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা উন্মোচন এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post