রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর শনিবার আগমন উপলক্ষে রূপগঞ্জের কাঞ্চনে দলীয় কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় নামের তালিকায় আগে-পরে রাখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে যুবদল কর্মীর ঘুষিতে আজাহার নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এ ঘটনা।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ত্রিশকাহনীয়া এলাকায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আজাহার কাঞ্চন পৌরসভার নরাবো এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের ছেলে। তিনি কাঞ্চন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নামের তালিকা থেকে সংঘর্ষে রূপ
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবারের একটি দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভায় বসেন। সভাকালীন কর্মসূচির তালিকায় কার নাম আগে বা পরে থাকবে—এই বিষয়টি নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত।
একপর্যায়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সবুজের সঙ্গে যুবদল কর্মী রাজিবের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজিবের সহযোগী হাসানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী মারমুখী হয়ে ওঠে। তারা সভাপতি সবুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আজাহার, যুবদলের সভাপতি রিপন ও এমরাতকে মারধর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের একপর্যায়ে আজাহার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুরুতর অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতি ?
ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং দলীয় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং সহনশীলতার অভাবের একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নামের তালিকায় অবস্থান নিয়ে এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভেতরের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার দিকটি স্পষ্ট করে তুলেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, সময়মতো নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতো।
প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্ত
এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে কাঞ্চন পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিহত আজাহারের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশ্ন রয়ে যায়
দলীয় কর্মসূচির মতো একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের তালিকা নিয়ে কেন এমন প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটবে—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতের ভিন্নতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান না নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।









Discussion about this post