আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না দিয়ে আবারও সময়ের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী-এর আদালতে র্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র মজুমদার লিখিতভাবে সময় প্রার্থনা করেন।
আদালত আবেদন গ্রহণ করেন।
একই দিনে মামলার আট আসামি আদালতে হাজিরা দেন। পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বাদীপক্ষ অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ চেয়ে আবেদন করলে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।
আজ বুধবার সেই সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রতিবেদন না দিয়ে নতুন করে সময় চাওয়ায় বাদীপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুস সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা লিখিতভাবে সময় চেয়েছেন। ধার্য তারিখে আট আসামি হাজির ছিলেন, দুইজন পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে।
হাজিরা দেওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন ও রিফাত বিন ওসমান।
পলাতক রয়েছেন সুলতান শওকত ও সালেহ রহমান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু আদালতে বলেন, ১০১ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
দীর্ঘ এক যুগের পরও অভিযোগপত্র আদালতে জমা না পড়া বিচারপ্রার্থীদের জন্য চরম হতাশার বিষয়।
২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ড
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর র্যাব-১১ সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী একটি পরিবারের নির্দেশে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
ন্যায়বিচার কি অনির্দিষ্টকালের অপেক্ষায় ?
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলার বিচার প্রক্রিয়া এগোবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হলেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বারবার বিলম্ব সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এ মামলায় বারবার সময় প্রার্থনা শুধু একটি পরিবারের নয়, সমগ্র সমাজের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার পরও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—আর কত সময় লাগবে একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে বিচার প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান









Discussion about this post