স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ ও ফরিদপুরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনৈতিক ও অপরাধমূলক অভিযোগ।
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মান্তরের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সেকেন্ড অফিসার মিলন দাসের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অনৈতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১ মার্চ (রোববার) দিবাগত রাত একটার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মানসুরাবাদ এলাকায় স্থানীয় জনতা মিলন দাসকে হাতেনাতে আটক করে। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অথচ বিস্ময়করভাবে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা না করেই রহস্যজনকভাবে তাকে “উদ্ধার” করে থানায় নেওয়া হয় এবং রাতভর চলে দর-কষাকষি ও তদবিরের নাটক।
ভুক্তভোগী নারী (ছদ্মনাম : আলমা খাতুন) রাতভর থানায় অবস্থান করে বিচার দাবি করলেও তার আর্তনাদ যেন আমলাতান্ত্রিক দেয়ালে আটকে গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মিলন দাস নিজেকে রক্ষার জন্য নানা মহলে তদবির চালান—যা আইন ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়েরের শর্তে মিলন দাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বক্তব্যই জনমনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—একজন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কেন তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেন তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হলো না ?
জেলা পুলিশের ভেতরেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র গুঞ্জন চলছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, মিলন দাস দীর্ঘদিন ধরে ওসির “ক্যাশিয়ারি”সহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, যা তাকে এখনো বহাল তবিয়তে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।
যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—বরং পুরো ব্যবস্থার ভেতরে প্রোথিত দুর্নীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোহাম্মদ হাছিনুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি অবগত নন এবং খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এত বড় একটি ঘটনা কীভাবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজর এড়ায় ?
একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যদি নিজেই প্রতারণা, অনৈতিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এই ঘটনা প্রমাণ করে—আইনের রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে ওঠে, তবে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এখন সময় এসেছে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষীকে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে—এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, আর জনগণের আস্থা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।









Discussion about this post