নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন নরসিংপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিযোগ উঠেছে, তারা স্পিনিং মিলের সামনে দিনের পর দিন ‘ওপেন স্পট’ বসিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে মাদক বাণিজ্য।
অথচ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহিল গ্রুপের সম্মুখে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে বসানো হয় মাদক বিক্রির ‘কাউন্টার’।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এতটাই প্রকাশ্য যে এটি এখন এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট’-এ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ কেজিরও বেশি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি হাজার হাজার পিছ ইয়াবাও বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।
এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে সানি নামে এক ব্যক্তি, যিনি সরাসরি সামনে না এসে একটি সংঘবদ্ধ (২০/২৫) সেলসম্যান দলের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
এমনকি তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মাদক স্পটকে ঘিরে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহটি যেন এক ধরনের প্রকাশ্য দাপট প্রদর্শন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের মূল হোতা প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলে বেড়াচ্ছে—“সেনাবাহিনীই বন্ধ করতে পারেনি, র্যাব-পুলিশ তো কিছুই না।”
এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ-এর স্থানীয় ইউনিট, বিশেষ করে ফতুল্লা মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সবাই জানে এখানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ মুখ খুলছে না। ভয় আর প্রভাব—দুটোরই ছায়া আছে।”
এলাকার অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উঠতি বয়সী যুবক ও অটোরিকশা চালকদের বড় একটি অংশ এই মাদক চক্রের ক্রেতায় পরিণত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
যদিও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক মেহেদী জানিয়েছেন, “কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।”
তবে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের প্রশ্ন—ঘটনাটি যদি সবার চোখের সামনে ঘটে, তবে কেন এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেই ?
স্থানীয় সংসদ সদস্য মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও, মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর জোর দাবি—অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে নরসিংপুরকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হোক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
অন্যথায় এই ‘ওপেন মাদক বাজার’ অচিরেই ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের রূপ নেবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।








Discussion about this post