নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী ও বিতর্কিত ব্যক্তি মোহাম্মদ হাতেমকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নানা ঘটনায় সমালোচিত এই ব্যবসায়ীকে বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংগঠন ‘আমার নারায়ণগঞ্জ’-এর ইফতার মাহফিলেও দেখা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদ আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ হাতেম কে দেখতে না পেয়ে অনেকেই কঠোর ভাষায় বলেন, এবার লজ্জা পেয়েছেন নির্লজ্জ হাতেম। এতোবার অপমান অপদস্ত হওয়ার পরও তিনি সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এবার ঘনিষ্ঠদের ইফতার মাহফিলে অনুপুস্থিতি প্রমাণ করে হাতেম লজ্জা পেয়েছে !
ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত মাসুদুজ্জামান, যিনি ‘মডেল মাসুদ’ নামেই বেশি পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও বিতর্কের বাইরে থেকে ব্যবসা সম্প্রসারণে মনোযোগী ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর হঠাৎ করেই আলোচনায় চলে আসেন মাসুদুজ্জামান।
ওই সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সে স্বঘোষিত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময় বিকেএমইএ’র সভাপতির আসন দখল করে বসেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাতেম।
ওই সময় হাতেম ও মাসুদ ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। যেন মানিকজোড়।
স্থানীয়দের মতে, এরপর দীর্ঘদিন একসঙ্গেই প্রভাব বিস্তারের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তারা।
তবে নানা সমালোচনার মুখে পড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুবিধা করতে পারেননি মাসুদুজ্জামান।
বিএনপির মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
অন্যদিকে বিকেএমইএ’র সভাপতির পদ এখনো ধরে রেখেছেন হাতেম, যা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো ১৫ বছর এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত হাতেম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিদেশ সফর এবং নানা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে আলোচনায় থেকেছেন।
এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বহুবার সমালোচনা, তিরস্কার এমনকি জনসম্মুখে অপমানের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
কয়েকদফা এমন অপমানের পর সম্প্রতি ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে জামায়াতে ইসলামীর এক ইফতার মাহফিলে সংসদ সদস্য আল-আমিনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায়ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হাতেম।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে হাতেমকে নিয়ে এমপির সমালোচনার জেরে তার অনুসারীরা তাণ্ডব চালায়। এরপর থেকেই তার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আয়োজিত ‘আমার নারায়ণগঞ্জ’-এর ইফতার মাহফিলে হাতেমের অনুপস্থিতি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
উপস্থিত শত শত নগরবাসীর চোখ খুঁজে বেরিয়েছে বিতর্কিত এই হাতেমকে।
এমনকি নারায়ণগঞ্জ ফটোসাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা হিসেবে তার ভূমিকা থাকলেও সংশ্লিষ্ট আরেক অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা হাতেম কি অবশেষে সমালোচনার চাপে জনসম্মুখে আসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন ?
মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন নাগরিক সংগঠন ‘আমার নারায়ণগঞ্জ’-এর আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
মাসুদুজ্জামান বলেন, “নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। উন্নয়নমূলক যেকোনো উদ্যোগে সবাই যেন একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারেন—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় রাজনীতিবিদরা নিজেদের সন্তানদের ‘যুবরাজ’ বানাতে গিয়ে শহরের পরিবেশকে আরও কুলুষিত করেছেন, যার ফলে সন্ত্রাস ও অস্থিরতা বেড়েছে।
এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মাওলানা আবদুল জব্বারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাতেমের অনুপস্থিতি নিয়েই এখন নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
অনেকের ভাষ্য—সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই হয়তো এবার জনসম্মুখ থেকে আড়ালে চলে গেছেন তিনি।








Discussion about this post