বন্দর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় জাকিয়া আক্তার মীম (২৪) নামের এক গৃহবধূর পক্ষে তার স্বজন বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বন্দর থানায় রেশমা আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগটি দায়ের করেন।
রেশমা আক্তার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল আমিন প্রধানের মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২নং মাধবপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম (পিতা– রকমত উল্লাহ) এর সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক জাকিয়া আক্তার মীমের বিয়ে হয়।
দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্বামীর ছোট ভাই মো. হানিফ একাধিকবার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হানিফ কক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদদের জানিয়ে বিচার চাইলে তারা উল্টো তাকে মারধর করে এবং বিষয়টি চেপে যেতে চাপ দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার জের ধরে গত ৮ মার্চ সকাল ১০টার দিকে স্বামী সেলিম, দেবর হানিফ, শাশুড়ি শিউলী বেগম এবং ননদ দুলালী বেগম ও আয়েশা বেগম তাকে বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে। একপর্যায়ে শাশুড়ির নির্দেশে ননদরা তাকে ধরে রাখে এবং স্বামী গ্যাস লাইট দিয়ে তার পরনের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার বুক, পেট, স্তন, গলা, মুখ ও ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসে যায়।
পরে অভিযুক্তরা চিকিৎসার কথা বলে তাকে বন্দর ঘাট এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা খবর পেয়ে গত ১২ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বন্দর থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








Discussion about this post