নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সড়ক অবরোধের ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাময়িকভাবে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটের দোকান মালিকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে “মালিক সমিতি”র নামে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হচ্ছিল।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সংগৃহীত ওই অর্থ যথাসময়ে বিদ্যুৎ অফিসে জমা দেওয়া হয়নি।
ফলে বকেয়া বিলের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেটটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই তাদের দৈনন্দিন ব্যবসা কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধানের দাবিতে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে, সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, যা পথচারী ও যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক জানান, “ব্যবসায়ীরা নিয়মিত টাকা পরিশোধ করলেও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা সড়ক থেকে সরে যান।বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মালিক সমিতির ব্যানারে সংগৃহীত বিদ্যুৎ বিলের অর্থ যথাযথভাবে জমা না দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিকতা
এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের মতো পদক্ষেপ জনদুর্ভোগ বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়।
করণীয়
স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা: মালিক সমিতির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে নিয়মিত অডিট ও তদারকি প্রয়োজন।
সরাসরি বিল পরিশোধের ব্যবস্থা: ব্যবসায়ীদের সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসে বিল পরিশোধের সুযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ: এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ জনভোগান্তি কমাতে সহায়ক।
আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ: অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এমন সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে।









Discussion about this post