স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসী যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। সামান্য আর্থিক লেনদেনের জের ধরে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করলো—স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা কতটা নাজুক হয়ে পড়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহত মাছুম মিয়া (২৫) সৌদি প্রবাসী ছিলেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ফেরার পরই তাকে প্রাণ দিতে হলো একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে—যা নিঃসন্দেহে মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ভয়াবহ অবক্ষয়ের উদাহরণ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাছুম মিয়া ও রাজু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হলেও সেখানে ৮ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে রাজু মিয়া প্রকাশ্যেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাছুমের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনা থেকেই পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নেয়।
এরপর পরিকল্পিতভাবে হামলার ফাঁদ পেতে সোমবার সন্ধ্যায় মাছুম মিয়া বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। প্রথমে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
হামলাকারীদের নিষ্ঠুরতায় স্পষ্ট—এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
স্থানীয়রা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়, যা এলাকায় তাদের দৌরাত্ম্য ও বেপরোয়া মনোভাবেরই প্রমাণ।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাছুম মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি—ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। উত্তেজিত জনতা কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ঘটনার আগে কেন এমন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না? কেন প্রকাশ্যে ছিনতাই ও হুমকির পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ?
এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি সমাজের আইনের প্রতি অবহেলা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসের দাপটের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে এমন সহিংসতা আরও বাড়বে—এমন আশঙ্কাই এখন স্থানীয়দের মধ্যে।









Discussion about this post