স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা, পরবর্তীতে নির্যাতন ও পরিত্যাগের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁওয়ের বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর গ্রামের নাসিত সিফাত নামে এক যুবক ঢাকার মিরপুর এলাকার স্কুল শিক্ষার্থী মিম আক্তারকে (ছদ্মনাম) নানা প্রলোভনে ফেলে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করে। বিয়ের পর তারা মিরপুরে একটি বাসায় একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।
কিন্তু সম্পর্কের মাত্র দুই মাস না পেরোতেই সিফাত হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে মিম বাধ্য হয়ে সিফাতের গ্রামের বাড়িতে গেলে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—সে ইতোমধ্যে আখি আক্তার নামে আরেক নারীর সঙ্গে নতুন করে সংসার পেতেছে।
এই প্রতারণার প্রতিবাদ করতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সিফাত, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আখি আক্তার এবং তার মা লাইলী বেগম মিলে অন্তঃসত্ত্বা মিমকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে।
তখন মিম তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন—যা এই হামলাকে আরও নৃশংস ও অমানবিক করে তুলেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মিম আক্তার জানান, “আমার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। আমাকে বিয়ে করে ছেড়ে দিয়েছে, উপরন্তু নির্যাতন করেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার পর গত ৩০ মার্চ তিনি সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও সেটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ওসি মহিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, “বিয়ের নামে প্রতারণা, একাধিক বিয়ে এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্যাতন—এসব শুধু অপরাধ নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়ংকর চিত্র। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এমন অপরাধ আরও বেড়ে যাবে।”
এই ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।









Discussion about this post