আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মমিনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের সারসংক্ষেপ
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
# মো. রাসেল (৩৬), বরগুনার সোনাখালী এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে
# মো. আল আমিন (৩৫), ভোলার চরফ্যাশন এলাকার আজগর মাঝির ছেলে
# মো. মামুন (৪২), পটুয়াখালীর নন্দীপাড়া এলাকার ইউসুফের ছেলে
# জোসনা বেগম (৩১), একই এলাকার বাসিন্দা
তাদের মধ্যে একমাত্র মো. রাসেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন; বাকিরা এখনও পলাতক।
ঘটনার বিবরণ
মামলার নথি ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় শিশুটিকে কৌশলে আটক করে আসামিরা। এরপর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
ভুক্তভোগীর বাবা ওই দিনই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
তদন্তে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং মুক্তিপণ দাবির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করে তদন্ত সংস্থা। মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামির বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়।”
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার—চ্যালেঞ্জ
রায়ের পরও তিন আসামি পলাতক থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দণ্ড কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের মামলায় রায় কার্যকর না হলে ভুক্তভোগী পরিবার পূর্ণ ন্যায়বিচার পায় না। তাই পলাতকদের ধরতে জোরালো অভিযান জরুরি।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এ রায়কে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা ও মানবাধিকারকর্মীরা। তবে তারা বলছেন, শুধু রায় নয়—এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা, দ্রুত বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।
উপসংহার
সিদ্ধিরগঞ্জের এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আদালতের এ রায় ন্যায়বিচারের একটি ধাপ হলেও, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপই হবে প্রকৃত।









Discussion about this post