নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে আবারও সংগঠিত হচ্ছে প্রভাবশালী চাঁদাবাজ ও দখলদার চক্র—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি।
তার বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—রাজনৈতিক পালাবদল হলেও চাঁদাবাজি, লুটপাট আর দখলদারিত্বের সংস্কৃতি থামেনি; বরং নতুন রূপে ফিরে আসছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোকপ্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জে “নতুন গডফাদার” তৈরি হচ্ছে এবং একটি সুসংগঠিত মাফিয়াতন্ত্র গড়ে ওঠার সুস্পষ্ট আলামত ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।
রাব্বির ভাষায়, অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে প্রভাবশালী একটি পরিবার পুরো জেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল, ঠিক একই চিত্র আবারও ফিরে আসছে—শুধু মুখ বদলেছে, চরিত্র বদলায়নি।
পরিবহন খাত থেকে শুরু করে বাজার-ঘাট—সবখানেই এখন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দাপট। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা বাস্তবতা যেন কেউ দেখেও না দেখার ভান করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির ভেতরেই রয়েছে “চাটার দল”—যারা সুযোগ পেলেই দলীয় ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মহোৎসবে মেতে ওঠে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দল ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত—ক্ষমতার পালাবদল মানেই যদি শুধু লুটপাটের মালিকানা পরিবর্তন হয়, তবে জনগণের মুক্তি কোথায় ?
রাব্বি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও জনগণ এখনো চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মি। “আমরা সরকার পরিবর্তন করি চাঁদাবাজদের টিকিয়ে রাখতে নয়”—এই বক্তব্যে তিনি জনগণের ক্ষোভকেই তুলে ধরেন।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, বিগত সময়ে সংঘটিত অসংখ্য হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন—“ইউনিফর্ম বদলালেই হবে না, মানসিকতা বদলাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আপনাদের দায়িত্ব, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা নয়।”
সরকারের প্রতিও ছিল কঠোর বার্তা। প্রশাসনকে দলীয়করণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সরকার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথকীকরণসহ সংস্কার প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তোলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রফিউর রাব্বির এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক সমালোচনা নয়—বরং নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ক্ষমতার ছায়ায় বেড়ে ওঠা অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এক কঠোর সতর্কবার্তা।
এখন দেখার বিষয়—এই সতর্কবার্তা সংশ্লিষ্টদের কানে পৌঁছায়, নাকি আগের মতোই সবকিছু চাপা পড়ে যায় ক্ষমতার প্রভাবের কারণে।









Discussion about this post