স্টাফ রিপোর্টার | নারায়ণগঞ্জ
ফতুল্লা যেন আর কোনো আবাসিক এলাকা নয়—পরিণত হয়েছে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে। ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের দুই প্রভাবশালী গ্রুপের সশস্ত্র সংঘর্ষে গুলি ও ককটেলের তাণ্ডবে রক্তাক্ত হলো এলাকা।
গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ১৩ বছরের শিশু ইমরান ও যুবক রাকিব (২৫)।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের সামনে এই দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটে—যেখানে দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, গুলি ছোড়া আর বিস্ফোরণে আতঙ্কে পালায় শত শত মানুষ।
🔥 ঝুট দখলে ‘গডফাদার’ দ্বন্দ্ব
অভিযোগ রয়েছে, ওসমানীয় সাম্রাজ্য পতনের পর ওসমানীয় অন্যতম দালাল হাতেম তৈরী করে নিজস্ব বাহিনী। একদিকে হাতিয়ার হিসেবে মশিউর রহমান রনিকে অপরদিকে বিশাল ঝুটের ভান্ডার হস্তান্তর করে ওসমানীয় সন্ত্রাসীদের হাটিয়ে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ রাসেল মাহমুদকে অধিষ্ঠিত করে । ঝুট সন্ত্রাসীসহ নানা অপকর্ম সিদ্ধ করতে হাতেমের অন্যতম হাতিয়ার রাসেল মাহমুদ। এই রাসেল মাহমুদের বিরুদ্ধে চাচাকে হত্যা চাচীকে রিয়ে অপর চাচাকে বৈষম্য বিরোধী মামলা দিয়ে জেল খাটানোসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ জোড়ালোভাবে উচ্চারিত হলেও তার টিকিটিও স্পর্শ করতে পারে নাই কেউ শুধুৃ হাতেম ও তার বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ফতুল্লার ঝুট সেক্টর দখলে নামে একাধিক গ্রুপ। এর নেতৃত্বে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি।
রনির নেতৃত্বে অভি, পল্লব, সুমন, প্রান্ত ও অনিকসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বেস্ট ফ্যাশন কম্পোজিটসহ বিভিন্ন কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। এই কারখানা থেকে মাসে অন্তত ৪০ লাখ টাকার এই বাণিজ্য ঘিরেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
অন্যদিকে, একই খাতে ভাগ বসাতে মাঠে নামে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ রাসেল মাহমুদ।
💣 মুহূর্তেই রণক্ষেত্র
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ২০-২৫ জনের অস্ত্রধারী দল নিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান নেয় রাসেল-মাসুদ গ্রুপ। খবর পেয়ে রনির অনুসারীরা শতাধিক লোক নিয়ে সেখানে হাজির হয়।
এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব—
এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ, একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ!
চোখের সামনে আবাসিক এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়,
“এটা কোনো সংঘর্ষ না, এটা সরাসরি যুদ্ধ ছিল!”
🎯 শিশু পর্যন্ত রক্ষা পেল না
এই সন্ত্রাসী মহড়ার মাঝেই গুলিবিদ্ধ হয় ১৩ বছরের শিশু ইমরান ও যুবক রাকিব। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
📹 সাংবাদিকদের ওপর হামলা
ঘটনার ভিডিও ধারণ করাও ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, রনি গ্রুপের সশস্ত্র সদস্য অভি ও পল্লব সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ ছিনিয়ে নেয়।
🔫 প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে রাসেল মাহমুদ নিজেই অস্ত্র হাতে চিৎকার করে প্রতিপক্ষকে হুমকি দিতে থাকে—
“এইবার দেখাই দিমু, কে ঝুট নেয়!”
🚔 পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি এম এ মান্নান বলেন,
“ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
⚠️ আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—
দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি-ককটেল, শিশু পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ—
তাহলে নিরাপত্তা কোথায় ?
ফতুল্লায় এখন একটাই আলোচনা—
ঝুট ব্যবসা, না কি ‘সন্ত্রাসের সাম্রাজ্য’?









Discussion about this post