নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এখন যেন এক অস্থির জনপদ। সংঘর্ষ, দখল, ভয়ভীতি আর রক্তাক্ত ঘটনার ধারাবাহিকতায় বারবার সামনে আসছে এক নাম—স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদ।
স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ, যা পুরো এলাকাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এমপিকে অবরুদ্ধ—‘দুঃসাহসের’ চূড়ান্ত উদাহরণ?
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ঘটনাতেও জড়িত ছিলেন রাসেল মাহমুদ ও তার অনুসারীরা। এই ঘটনাকে অনেকেই বলছেন “রাজনৈতিক দুঃসাহসের চরম বহিঃপ্রকাশ”।
অভিযোগ উঠেছে, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং বিরোধীদের দমনে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেন।
‘উপগ্রহ সন্ত্রাস’—আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ
ফতুল্লা জুড়ে তার অনুসারীদের মাধ্যমে এক ধরনের “উপগ্রহ সন্ত্রাস” চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন গ্রুপ ও ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার কৌশল দীর্ঘদিন ধরেই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
পুরনো কেলেঙ্কারি, নতুন বিস্ফোরণ
এর আগেও তার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে—নিজ চাচার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক, হাতেনাতে ধরা পড়া, পরে সেই নারীকে বিয়ে এবং চাচা আনোয়ার হোসেন আনু হত্যা মামলায় আসামি হওয়া।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি—বরং অভিযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আজকের ঘটনা : গুলিতে শিশু আহতের অভিযোগ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি এসেছে আজ, ৯ এপ্রিলের একটি ঘটনায়। একটি সংঘর্ষ/দুর্ঘটনাকে ঘিরে আহত ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইমরান বর্তমানে মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির মা অভিযোগ করেছেন, তার ছেলের শরীরে যে গুলি লেগেছে—তা রাসেল মাহমুদের অস্ত্র থেকেই ছোড়া হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্নের মুখে আইন-শৃঙ্খলা
একের পর এক এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়—এ প্রশ্ন এখন জনমনে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ কি পার পেয়ে যাচ্ছে? নাকি তদন্তের অভাবেই সত্য চাপা পড়ে যাচ্ছে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
উপসংহার:
আতঙ্কে ফতুল্লা, উত্তরের অপেক্ষায় মানুষ
রাসেল মাহমুদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু ব্যক্তিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই—এগুলো পুরো এলাকার নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।









Discussion about this post