নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ওয়েস্টিজ (ঝুট) মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার ( শনিবার দিবাগত রাত : ১২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা এ মামলায় সারজিল আহম্মেদ অভি ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী আসামিদের তালিকা নিচে দেওয়া হলোঃ
১। সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০)
২। আব্দুল হামিন প্রধান (৫২)
৩। মোঃ আব্দুস সালাম (৪০)
৪। আকাশ (২৮)
৫। সুমন মোল্লা রকেট (৪৩)
৬। খায়রুল কবির জসিম (৫৫)
৭। মোঃ ইয়াসিন (২৮)
৮। মশিউর রহমান রনি (৩৫)
৯। মোঃ আলী রতন (৩৮)
১০। মোঃ মুরাদ হাসান (৩৮)
১১। আদনান আজিজ প্রান্ত (৩২)
১২। দান (৪৫)
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিরোধের জেরেই সংঘর্ষ
মামলার বাদী মোঃ হোসেন খোকা (৫২) এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) পড়াশোনার পাশাপাশি এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ওয়েস্টিজ মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গার্মেন্টসটির সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বাদী ঘটনাস্থলে যান।
কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে অবরোধ করে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, এসময় কয়েকজন আসামি পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ
পরিস্থিতি একপর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নিলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে।
বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ছেলে
হামলার খবর পেয়ে বাদীর ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব ঘটনাস্থলে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।









Discussion about this post