নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক রঙ বদলের এক বিতর্কিত উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতা আলী হোসেনের নাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার পুরনো কৌশল অবলম্বন করে এবার তিনি বিএনপির ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন আলী হোসেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় তার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপরই শুরু হয় নতুন কৌশল—দল বদলে বিএনপির পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা।
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে নিজেকে ‘গ্রহণযোগ্য’ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছবি প্রচার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
মাটি কাটার সিন্ডিকেটে সক্রিয় ভূমিকা
শুধু রাজনৈতিক অবস্থান বদলেই থেমে থাকেননি আলী হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এখন মুছাপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফসলি জমি ধ্বংস করে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে—
নামমাত্র মূল্যে জমির মাটি কেনা কিংবা
জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হচ্ছে
বিস্তীর্ণ কৃষিজমি খালে পরিণত হয়েছে
পানি নিষ্কাশনের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ
ব্যবহার করে পাম্প চালানো হচ্ছে
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও অবৈধ উপায়ে
কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে
এই সিন্ডিকেটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আইন প্রয়োগে প্রশ্ন, নীরব প্রশাসন
স্থানীয়দের দাবি, আলী হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তার হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
বিএনপির তৃণমূলের ক্ষোভ
স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা এখন দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে ঢুকে পড়ছে, অথচ দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা উপেক্ষিত হচ্ছেন। এতে করে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে এবং সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তাদের মতে, এ ধরনের ‘সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশ’ যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থন উভয়ই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গঠনমূলক প্রত্যাশা
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন—
# অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক
# অভিযান পরিচালনা জরুরি
# রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে
# দলীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই জোরদার করে ‘সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশ’ রোধ করতে হবে
# কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর মনিটরিং ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে
উপসংহার :
রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক নীরবতার সমন্বয়ে মুছাপুর ইউনিয়নে এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন দেখার বিষয়—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।









Discussion about this post