স্টাফ রিপোর্টার :
সোনারগাঁয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
ভুল প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার মতো গুরুতর অবহেলা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের নির্মম খেলাও বটে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর পর তিনটি কক্ষে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালেও দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এমন উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের প্রশ্ন সরবরাহ করে।
এরপর অতিরিক্ত দেড় ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—এভাবে হঠাৎ প্রশ্ন পরিবর্তন ও সময় বাড়িয়ে দেওয়া কি আদৌ একটি সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে ?
শিক্ষার্থীরা চরম বিভ্রান্তি, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, এমন গুরুতর গাফিলতির ফলে তাদের সন্তানের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের প্রশ্ন—এই দায়ভার কে নেবে ?
কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক মতিন সরকার ঘটনাটিকে ‘ভুলবশত’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও সচেতন মহল এটিকে কোনোভাবেই সাধারণ ভুল হিসেবে দেখতে রাজি নয়। তাদের মতে, এটি দায়িত্বহীনতা, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার চরম অভাবের স্পষ্ট প্রমাণ।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে সর্বত্র। অন্যথায় এমন অবহেলা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা এখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্রভাবে বিরাজ করছে।









Discussion about this post