স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বহুল আলোচিত ১০ জন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির দায়মুক্তি (ডিসচার্জ) আবেদন নিয়ে আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা আদালতে ডিসচার্জ আবেদন উপস্থাপন করবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়।
শুনানিতে তিনটি পৃথক অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে আসামিপক্ষ সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী,
# প্রথম ঘটনা: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া ও ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
# দ্বিতীয় ঘটনা: ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিব নিহত হন।
# তৃতীয় ঘটনা: ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই তিনটি ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হন বলে প্রসিকিউশন দাবি করেছে।
আসামিদের পরিচয়
মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমপি শামীম ওসমান। এছাড়া তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্রসহ মোট ১২ জন এ মামলার আসামি।
আইনি অবস্থা
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি এবং সবাই পলাতক রয়েছেন।
বর্তমান শুনানির গুরুত্ব
আজকের শুনানিতে আসামিপক্ষের ডিসচার্জ আবেদন গ্রহণযোগ্য কিনা, তা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হবে। আদালত যদি আবেদন খারিজ করেন, তবে মামলাটি পরবর্তী ধাপে—অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ—অগ্রসর হবে। অন্যদিকে ডিসচার্জ মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট আসামিরা এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।
সারসংক্ষেপ
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এ মামলাটি শুধু একটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতার বিচারিক পরিণতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। আজকের শুনানি মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









Discussion about this post