নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় গার্মেন্টস ওয়েস্টিজ (ঝুট) ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং এর আগের সংঘর্ষের ঘটনার সূত্র ধরে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাম্প্রতিক অভিযোগ ও জিডি
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাব্বির হোসেন রাজা।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ঝুট ব্যবসা পরিচালনার সময় বিসিক এলাকার একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল ক্রয়ের মুহূর্তে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাধা দেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি তার মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে অভিযোগকারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা ছেড়ে না গেলে গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেন।
অভিযোগকারী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্বের সংঘর্ষ ও মামলার প্রেক্ষাপট
এই ঘটনার আগে, গত ১২ এপ্রিল ফতুল্লার হরিহরপাড়া চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ রাকিবের পিতা খোকা একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে সারজিল আহম্মেদ অভি ও মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় রনি ও তার সহযোগীরা গুলিবর্ষণে জড়িত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, জিডির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঝুট ব্যবসা: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ঝুট বা ওয়েস্টিজ ব্যবসা একটি লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবসা ঘিরে প্রায়ই স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব, প্রভাব খাটানো এবং অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংঘাতের মূল কারণগুলোর একটি।
বিশ্লেষণ ও করণীয়
# বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে—
# আইনের শাসনের চ্যালেঞ্জ: একই ঘটনায় জিডি ও মামলা থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান
# পদক্ষেপের অভাব জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
ব্যবসায়িক আধিপত্যের লড়াই: ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতা: অভিযোগকারীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিক নির্দেশ করে।
প্রস্তাবিত করণীয়
দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা
সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
নজরদারি বৃদ্ধি
# ঝুট ব্যবসাকে একটি নীতিমালার আওতায় আনা
# ব্যবসায়ীদের জন্য নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা
# রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা
উপসংহার
ফতুল্লার ঝুট ব্যবসা ঘিরে চলমান বিরোধ কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তরভাবে অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক খাত ও প্রভাবভিত্তিক আধিপত্যের প্রতিফলন।
দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ধরনের সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা জননিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ—উভয়ের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।









Discussion about this post