স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে ঘিরে চলমান মামলা ও ‘গুঞ্জনভিত্তিক’ বিতর্ক।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠছে।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে একাধিক মামলায় জামিনে থাকা সত্ত্বেও তাকে ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর বৈধতা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
গুঞ্জনের আগুনে রাজনীতি
নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে অভিযোগ উঠেছে—আইভীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের কোনো স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত হয়রানির কৌশল।
স্থানীয়দের একটি অংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী একটি ‘সিন্ডিকেট’, যারা অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল।
বিশেষ করে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান-কে ঘিরে নানা অভিযোগ ও গুঞ্জন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
অনেকের দাবি, এই চক্রের অর্থ ও প্রভাবেই আইভীর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালিত হচ্ছে—যদিও এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো নিশ্চিত হয়নি।
জনপ্রিয়তা বনাম চাপ
নগরবাসীর বড় একটি অংশের মতে, আইভী ধারাবাহিকভাবে ভোটে নির্বাচিত হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের কাছেও তিনি ‘গ্রহণযোগ্য’ মুখ ছিলেন—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তিগুলোর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব নতুন নয়। বরং সাম্প্রতিক মামলাগুলো সেই পুরনো দ্বন্দ্বকেই আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইনি লড়াই ও প্রশ্ন
আইভী ইতোমধ্যে ১০টি মামলায় জামিনে রয়েছেন। এরপরও নতুন দুটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী চাপ প্রয়োগের কৌশল ?
আদালতের নির্দেশনায় আপাতত স্বস্তি এলেও, মূল প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে—
# কেন বারবার নতুন মামলায় তাকে জড়ানো হচ্ছে ?
# এই প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো অদৃশ্য রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে কি না ?
# ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারব্যবস্থা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে ?
উপসংহার
হাইকোর্টের নির্দেশনা সাময়িকভাবে আইভীর জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে জমে থাকা উত্তেজনা কমেনি। বরং গুঞ্জন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভেতর দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়—আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনার মাধ্যমে এই বিতর্কের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ সমাধান আদৌ নিশ্চিত হয় কি না, নাকি গুঞ্জনের এই আগুন আরও দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিকে উত্তপ্ত রাখে।









Discussion about this post