নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় এক যুগ পার হলেও চূড়ান্ত বিচার এখনো ঝুলে আছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। দীর্ঘ এই বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর দেওয়া প্রতিশ্রুতি, যা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় নিহতদের পরিবার।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন।
কয়েকদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ান খালেদা জিয়া।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেসময় তিনি তাদের মাথায় হাত রেখে আশ্বাস দিয়েছিলেন—তার দল ক্ষমতায় এলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে।
সেই আশ্বাসই এখনো ধরে রেখেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
মামলার অগ্রগতিতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ২০১৮ সালে তা কমিয়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। কিন্তু এরপর প্রায় সাড়ে সাত বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় পড়ে আছে।
নিহতদের স্বজনরা বলছেন, প্রথম সাড়ে তিন বছরে বিচারকাজ দ্রুত এগোলেও পরবর্তী সময়ে তা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এতে করে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তারা হতাশার পাশাপাশি আতঙ্কেও দিন কাটাচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান আসামি নূর হোসেনের মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন তাদের মধ্যে নতুন করে ভয় তৈরি করেছে।
নিহত তাজুল ইসলামের পরিবার জানায়, ঘটনার পর দেওয়া খালেদা জিয়া-এর প্রতিশ্রুতি তাদের এখনো আশা জোগায়। যদিও তিনি আর বেঁচে নেই, তবুও তার দেওয়া কথার বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বজনরা দৃষ্টি দিচ্ছেন তারেক রহমান-এর দিকে। তাদের প্রত্যাশা, দলের নেতৃত্বে থাকা তিনি তার মায়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত এই মামলার বিচার সম্পন্ন করবেন।
নিহতদের পরিবারের দাবি, শুধু রায় নয়—এ রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করাও জরুরি।
তাদের মতে, দীর্ঘ এই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিচার নিশ্চিত করা গেলে সেটিই হবে প্রকৃত ন্যায়বিচার এবং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি বড় পদক্ষেপ।









Discussion about this post