স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী।
নগরবাসীর আস্থাভাজন এই সাবেক মেয়র দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী শামীম ওসমান পরিবারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল বহুল আলোচিত।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওসমান পরিবারের নানা অনিয়ম-অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অবস্থান নেওয়ার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে আইভীকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভেতরেই থেকে আইভীকে বারবার চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
অতীতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেত্রী নাজমা রহমান একই ধরনের চাপ ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় আইভীকেও বিভিন্নভাবেওসমান পরিবার কর্তৃক কোণঠাসা করার অভিযোগ রয়েছে জোড়ালো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে আইনি জটিলতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠ একটি মহল যারা নারায়ণগঞ্জের ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিচিত বিএনপির এমন একটি চক্র) পরিকল্পিতভাবে আইভীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করিয়ে তাকে গ্রেফতার ও কারাবন্দি রাখার পথ তৈরি করে।
এমনকি তাকে বারবার বিভিন্ন মামলায় “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ঘটনাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ অবস্থায় উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশনা আসে, আইভীকে যেন নতুন করে আর কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো না হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাইকোর্টে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বুধবার এ সংক্রান্ত শুনানি গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দিলেও আপিল বিভাগ তা স্থগিত করে।
পরে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলে সেগুলোতেও তিনি জামিন পান, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে স্থগিত হয়।
সর্বশেষ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাব স্পষ্ট।
আজকের হাইকোর্টের আদেশ শুধু আইভীর ব্যক্তিগত মুক্তির প্রশ্নই নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্ধারণ করতে পারে।









Discussion about this post