নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চাপকে ভেঙে দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে কার্যত আইনি ফাঁদে আটকে রাখার যে অভিযোগ উঠেছিল—এই আদেশ সেই প্রক্রিয়ার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।
এর আগে শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য মুলতবি রাখলেও শেষ পর্যন্ত আইভীর পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচ মামলার জামিন নিয়ে আপিল বিভাগের রায় এখনো অপেক্ষমাণ, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আইভী একদিকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক, অন্যদিকে ক্ষমতাধর একটি গোষ্ঠীর জন্য অস্বস্তির কারণ।
বিশেষ করে শামীম ওসমান পরিবারকে ঘিরে তার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মামলার পর মামলা ঠুকে দিয়ে তাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বারবার “শোন অ্যারেস্ট” দেখানোর ঘটনাও আইনের অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি এতটাই বিতর্কিত হয়ে ওঠে যে, উচ্চ আদালতকেই নির্দেশ দিতে হয়—নতুন করে যেন তাকে আর কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো না হয়। এই নির্দেশ নিজেই প্রমাণ করে, পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা অস্বাভাবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে অনেকের ধারণা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় তাকে জড়িয়ে কার্যত কারাগারে আটকে রাখা হয়। একাধিকবার জামিন পেলেও তা স্থগিত হওয়া—পুরো ঘটনাকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।
সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি আইনি লড়াই নয়—বরং ক্ষমতা, প্রভাব এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন। তাদের ভাষায়, “রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে আইনের ব্যবহার নয়, অপব্যবহারই এখানে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
হাইকোর্টের এই জামিন আদেশ তাই শুধু একজন ব্যক্তির মুক্তির বিষয় নয়; বরং এটি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে চলমান চাপানউতোরের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—সব চাপের মধ্যেও আইনের শেষ আশ্রয় এখনো পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়নি।









Discussion about this post