জনতার সামনে গ্রেফতার, ঘণ্টা না পেরোতেই ‘অদৃশ্য শক্তিতে’ মুক্ত—থানা পুলিশের ভূমিকায় তীব্র প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদক নিয়ন্ত্রণ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ—মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ‘জিরো টলারেন্স’ এর কথা বলা হলেও বাস্তবে থানা পুলিশের কর্মকাণ্ডেই সেই লড়াই ভেঙে পড়ছে।
গ্রেফতারের নাটকীয়তা দেখিয়ে জনতার বাহবা কুড়ানো হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের চৈতনকান্দা নয়াপাড়া এলাকায়।
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি শাহাপরাণ (৪০) কে বুধবার সন্ধ্যায় মানিকপুর বাজার থেকে শত শত মানুষের সামনে টেনে হেঁচড়ে আটক করে আড়াইহাজার থানা পুলিশ।
এসআই মাজহারুল ও এসআই জহিরুলের নেতৃত্বে এই গ্রেফতারের ঘটনায় মুহূর্তেই এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি এক ঘণ্টাও।
থানায় নেওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে শাহাপরাণকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পেয়ে সে আবার এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করে।
এতে হতবাক এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলছে—“এটা কি আইনশৃঙ্খলার বাস্তব চিত্র, নাকি প্রহসন ?”
স্থানীয়দের ভাষ্য, “যে ব্যক্তিকে আগেও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল, সেই একই ব্যক্তি আবার জনসম্মুখে গ্রেফতার হয়ে এত দ্রুত মুক্তি পায় কীভাবে? তার পেছনে কোন অদৃশ্য হাত কাজ করছে ?”
এর আগে মাত্র দুই দিন আগে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি আড়াইহাজারে এসে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেন। কিন্তু তার ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই এমন ঘটনা পুরো বক্তব্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, “যেখানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, সেখানে মাদক নির্মূল তো দূরের কথা, বরং অপরাধীদের মনোবলই বাড়ে।”
এদিকে পুলিশি ব্যাখ্যাও জনমনে সন্দেহ দূর করতে পারেনি। থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, শাহাপরাণের কাছে কোনো মাদক না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে জনতার প্রশ্ন—“তাহলে জনসম্মুখে নাটকীয় গ্রেফতারের প্রয়োজন কী ছিল ?”
শুধু তাই নয়, একই রাতে চালাকচর এলাকায় মাদক সেবনের আসর থেকে চারজনকে আটক করে ৩৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধারায় মামলা হলে সহজেই জামিন হয়ে যায়—যা মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কাছে এক ধরনের ‘নিরাপদ পথ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বমোট পরিস্থিতিতে আড়াইহাজারবাসীর একটাই প্রশ্ন—“পুলিশ যদি নিজেই মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষা করে, তাহলে এই এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইটা করবে কে ?”









Discussion about this post